শরতের স্নিগ্ধ সকাল। মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি। বাতাসে মিশে আছে মিষ্টি সুবাস। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বসুরধুলজুড়ী গ্রামের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মো. ওহিদুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় ঢুকতেই চোখ আটকে গেল ধবধবে সাদা দোলনচাঁপায়। কয়েকটি ঝাড়জুড়ে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন শরতের আকাশ থেকে নেমে আসা শুভ্র প্রজাপতি।
দোলনচাঁপা (ঐবফুপযরঁস পড়ৎড়হধৎরঁস) আদা পরিবারের অর্থাৎ তরহমরনবৎধপবধব-এর একটি সুগন্ধি ফুলগাছ। এর আদি বিস্তৃতি পূর্ব হিমালয় অঞ্চল; বিশেষ করে সিকিম, নেপাল ও ভারতের কিছু এলাকায়। আদার মতো রাইজোম বা ভূগর্ভস্থ কান্ড (কন্দ) থেকে গাছ জন্মে। লম্বা, বল্লমাকৃতির পাতার মাঝখান থেকে শক্ত ডাঁটি বের হয়ে তাতে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল ফোটে। বর্ষার পর থেকে শরৎ ও হেমন্তে এর ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুভ্র ফুলের মিষ্টি সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। চারপাশের সবুজের মধ্যে সাদা ফুলগুলোর কোমল অবয়ব সত্যিই প্রজাপতির মতো। তাই ইংরেজিতে এর পরিচিতি ইঁঃঃবৎভষু এরহমবৎ খরষু বা ডযরঃব এরহমবৎ খরষু। বাগানের শোভা বাড়ানোর জন্য এই ফুলের জুড়ী মেলা ভার।
রাইজোম থেকে সহজেই নতুন গাছ জন্মায় এবং অনুকূল পরিবেশে দ্রুত ঝাড় বিস্তার করে। সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মো. ওহিদুল্লাহ জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাড়ির আঙিনায় দোলনচাঁপা লাগিয়েছিলেন। এক বছর পর থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করে। তাঁর ভাষায়, “বিগত চার বছর ধরে আমার বাড়ির আঙিনায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে এই শুভ্র দোলনচাঁপা। দেখলে সত্যিই মন ভরে যায়।” বাংলা সাহিত্যেও দোলনচাঁপার রয়েছে বিশেষ উপস্থিতি। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে এই ফুল কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে এসেছে। তাঁর ‘দোলন-চাঁপা’ কাব্যগ্রন্থে ফুলটি পেয়েছে স্মৃতি ও বেদনার অনন্য অনুষঙ্গ। সুবাসিত এই শুভ্র ফুল কিউবার জাতীয় ফুল হিসেবেও পরিচিত। শরতের নির্মল আকাশের নিচে দুলতে থাকা দোলনচাঁপা তাই শুধু একটি ফুল নয়; প্রকৃতির শুভ্রতা, সুবাস ও বাঙালির কাব্যিক অনুভূতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
কালের সমাজ/কে.পি

