ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

নবীনগরে রাতের আধারে মেঘনার বালু লুট, হুমকির মুখে কৃষি জমি

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম নবীনগরে রাতের আধারে মেঘনার বালু লুট, হুমকির মুখে কৃষি জমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চর মানিকনগর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে রাতের আঁধারে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ক্রমাগত বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনগণের মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- প্রতিদিন রাত ১০টার পর ১০-১৫ টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে একটি প্রভাবশালী চক্র। মেঘনা নদীর রায়পুরা অংশের চরমধুয়া এবং নবীনগর অংশের চর মানিকনগর মৌজায় দীর্ঘ দিন যাবত এই কর্মকান্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে- ড্রেজার গুলোর নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে বালু কাটতে স্পিডবোটে সশস্ত্র ব্যক্তিরা নদীতে মহড়া দেয়। ফলে স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
 

অনুসন্ধান ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়- এই চক্রের সাথে জড়িতদের মধ্যে নবীনগরের নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাত এবং তার দুই ছেলে সুমন ও লিওন এর নাম উঠে এসেছে। পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জার চর ইউনিয়নের নয়ন শেখ, দুলাল, ইমান আলী এবং বাঁশগাড়ি গ্রামের হারুন, লিটন, বোবা কালাম ও ওবায়দুল্লাহ এই চক্রের সাথে যুক্ত বলে স্থানীয় ভাবে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়- অভিযুক্তদের অনেকের বিরুদ্ধেই থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন।
 

নদী থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক তাঁদের কৃষিজমি হারানোর আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান-"মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন কোন ভাবেই বরদাশত করা হবে না। চর মানিকনগর ও চরমধুয়া মৌজায় অবৈধ ভাবে বালু তোলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।" স্থানীয়দের দাবি- সাময়িক অভিযান নয়, বরং স্থায়ী পদক্ষেপের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কৃষক ও নদীকে রক্ষা করা হোক।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!