ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে দাফন

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:০৭ এএম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে দাফন

দিনভর উত্তেজনা ও বাধার অভিযোগের পর পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মধ্যরাতে দাফন করা হয়েছে মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম।

মানিক পশারী জামায়াত নেতা ও প্রয়াত সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী ছিলেন।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেয়া হলে তার স্বজনরা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এরপর সদর থানা-পুলিশের নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়।

পরে রাত ১২টার দিকে সদর থানা-পুলিশ জেলা জামায়াতের নেতাদের সহযোগিতায় মানিক পশারীর মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। রাত ১টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তার স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনও নেতা বাধা দেননি।

জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মানিক পশারী পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক আদালতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় তিনি অন্যতম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!