ঢাকা রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ-উত্তেজনা

এসআই শফিক | মে ৩১, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুতে  বাড়ছে উদ্বেগ-উত্তেজনা

রাজধানীর বিভিন্ন সকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রায়শই ওঠছে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ। এতে তর্কাতর্কি থেকে শুরু করে তীব্র উত্তেজনা-উদ্বেগ ও ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে। রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানষ দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা হারিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত-চীনসহ অন্যান্য দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার হাই কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জালাল উদ্দিন সরকার নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। কোমরের হাড়ের অপারেশনের জন্য ভর্তি হওয়ার পর ঘুমের ওষুধ পুশের কারণে রোগীর জ্ঞান না ফেরায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। ধানমন্ডি ও গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে নাকের পলিপ অপারেশন করাতে গিয়ে মো. সামসুদ্দোহা শিমুল নামে এক রোগীর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া মোশাররফ হোসেন নামের এক রোগীর মৃত্যুর পেছনে গ্রীন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে এবং এ ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগও সামনে আসে। রাজধানীর গোলাপবাগে মনোয়ারা অর্থপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে স্মৃতি আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। 
৬ নবজাতকের মৃত্যু, বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে নোটিশ: দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা সেবার মান যাচাই, অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সংঘটিত ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৩১ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রের কর্তব্য জনগণের জন্য নিরাপদ, মানসম্পন্ন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার মান, বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউ এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি।

এরআগে ২৮ মে গত বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স এক থেকে তিন দিন। তবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে নবজাতকদের স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কক্ষটিতে থাকা বাচ্চারা হঠাৎ করে কান্নাকাটি শুরু করে। অল্প সময়ের ব্যবধানেই সব কটি বাচ্চা কান্না শুরু করে। এর মধ্যে একটি বাচ্চা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এনআইসিইউতে (নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়া হয়। তারপর ভোরের দিকে একে একে সব কটি বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরও এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে এনআইসিইউতে থাকা অবস্থায় তাদের জানানো হয়, বাচ্চারা মারা গেছে। মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি নবজাতকের শরীর নীল রং ধারণ করে।

ঘটনার বিষয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ৬টি। ওয়ার্ডটি পোস্টডেলিভারি ওয়ার্ড। বাচ্চারাও মায়ের পাশে ছিল। যেহেতু এটা এসি ওয়ার্ড, মায়েরা হঠাৎ রাতে কর্তব্যরত নার্সদের এসি বন্ধ করতে বলছিল ঠান্ডা লাগার জন্য। এসি বন্ধ করার পর রাত চারটার দিকে দুটি বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন, বাচ্চা ভালো আছে। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলা হয়। নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, সকালের দিকে হঠাৎ মায়েরা আবার বলেন, শিশুদের অসুস্থ মনে হচ্ছে। তখন ছয়টি শিশুকেই এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুটি শিশু নিয়ে যাওয়ার সময়ই মারা গেছে। আর চারটি শিশুর অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। তাদের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল; কিন্তু বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পর দুপুরের দিকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ওই কক্ষ সিলগালা করে দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করেন তাঁরা। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরাও সেখানে আসেন। কক্ষটিতে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস আছে কি না, সেটির নমুনা সংগ্রহ করে দলটি। পরে বিকেলের দিকে স্বজনদের কাছে নবজাতকদের মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। স্বজনেরা না চাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর মগবাজারে আদ্দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অবহেলার কারণে নবজাতকদের মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাবিবুর রহমান নামে এক নবজাতকের বাবা অভিযোগ দায়ের করেন। তবে বৃহস্পতিবার সেটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। আসামি হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।৩১ মে রাজধানীর ডেমরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আড়াই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে জনতা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ২৯ মে বিকেলে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় অবস্থিত শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নুর নবী (২০) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিন্নিরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ভেতরে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত নুর নবীকে আটক করেন। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, মানুষের নৈতিকতার এত বড় বিপর্যয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি হাসপাতালে এসে আড়াই বছরের কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার মতো জঘন্য অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার নুর নবীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।গত ৩১ মে সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী দুলালী (৪০) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যায়।

তিনি জানান, দুলালী তীব্র রক্তস্বল্পতা (গুরুতর অ্যানিমিয়া), শরীরে লবণ-খনিজের ভারসাম্যহীনতা এবং সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। এরআগে শনিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তিনি মারা যান। দুলালী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

দুলালীকে উদ্ধারকারী মুছা করিম রিপন সাংবাদিকদের জানান, গত ২২ মে সকালে বাসার পাশের একটি গলিতে অসুস্থ অবস্থায় দুলালীকে দেখতে পান তিনি। পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিলেন না দুলালী। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, এক্সিম ব্যাংক হাসপাতাল, নিরাময় ক্লিনিক ও সুপারম্যাক্স হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ‘দুলালীকে বাঁচাতে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন মুছা করিম রিপন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুলালীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও দুলালীর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান সরকারিভাবে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মারা যান দুলালী। ৩০ মে কোনাপাড়ার আল নূর হাসপাতালে (ফার্মের মোড়, ডেমরা) রাসেল নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মী-স্বজন ও স্থানীয় জনতা হাসপাতালে অবরোধ করে নানাধরনের স্লোগান দেয়। পরে র‌্যাব-পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাটি মিমাংসা করনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা.শফিকুল পারভেজ।

এরআগে ১৫ মে রাতে চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপতালে মেহেনিত বিন জিয়া নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। স্বজনদের অভিযোগ, তিন দিন আগে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় ৯ মাসের জিয়া। সে নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিল। সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। শিশুটির মামা বলেন, মৃত্যুও আগেও কিছুটা সুস্থ ছিল। কিন্তু রাতে হঠাৎ শরীর খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তার খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সেখানে দুজন নার্স খুবই খারাপ ব্যবহার করেন। আমার ভাগ্নেকে বাঁচাতে পারিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ হান্নান বলেন, শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল। বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্লেষক বক্তব্যে দিতে রাজি হননি।

ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু, ফৌজদারি আইনে যা আছে: ফৌজদারি আইনে শাস্তি (দণ্ডবিধি, ১৮৬০)ধারা ৩০৪ (ক): কোনো চিকিৎসক যদি অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটান। তবে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে-ধারা ৩৩৮ (ক): অবহেলামূলক কাজের দ্বারা জীবন বিপন্নকারী আঘাত দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।ক্ষতিপূরণ ও দেওয়ানি প্রতিকারভুক্তভোগী পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারে।

এছাড়াও, উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট দায়ের কর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করার নজিরও রয়েছে। প্রশাসনিক ও লাইসেন্স বাতিলচিকিৎসকের অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (ইগউঈ) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।

 

কালের সমাজ/এ.জে

Link copied!