ঢাকা বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

মেক্সিকোতেও গোপন প্রাণঘাতী অভিযান চালাচ্ছে সিআইএ!

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ১৩, ২০২৬, ১১:৪১ এএম মেক্সিকোতেও গোপন প্রাণঘাতী অভিযান চালাচ্ছে সিআইএ!

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এবার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতেও গোপন প্রাণঘাতী অভিযানে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর বিরুদ্ধে।

এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানের নামে দেশটির ভেতরে টার্গেট হামলা, বিস্ফোরণ ও গাড়িবোমা হামলায়ও অংশ নিচ্ছে সংস্থাটি। যদিও মেক্সিকো সরকার বলছে, তাদের ভূখণ্ডে সব ধরনের অভিযান পরিচালনা করে শুধুই দেশটির নিজস্ব বাহিনী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএর বিশেষ ইউনিট ‘গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ’ সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে জড়িত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ মার্চ মেক্সিকো সিটির বাইরে একটি মহাসড়কে গাড়িবোমা হামলায় সিনালোয়া কার্টেলের মধ্যম পর্যায়ের সদস্য ফ্রান্সিসকো ‘এল পায়িন’ বেলত্রান ও তার চালক নিহত হন।

অভিযান সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘তাদের অভিযানের প্রাণঘাতী সক্ষমতা অনেক বাড়ানো হয়েছে। মেক্সিকোর ভেতরে সিআইএ আগে যা করতে রাজি ছিল, এটি তার বড় ধরনের বিস্তার।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনালোয়া ও জালিসকোসহ মেক্সিকোর বড় কয়েকটি কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পরই এই অভিযান জোরদার করা হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মেক্সিকোর নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর হামিদ গার্সিয়া হারফুচ বিদেশি সংস্থার এককভাবে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালিত হয়।

হারফুচ আরও বলেন, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সব ধরনের অভিযান পরিচালনা করে কেবল মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ। আর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বয় ও সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে গোপন ও প্রাণঘাতী এই অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সিআইএ। অন্যদিকে মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপন অভিযান পরিচালনার অভিযোগে বহুবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ড্রোন হামলা ও টার্গেট কিলিংয়ে সংস্থাটির সম্পৃক্ততার কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০০১ সালের পর আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতীয় এলাকাতেও ড্রোন হামলার মাধ্যমে জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতাদের টার্গেট করার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযানে বহু জঙ্গি নিহত হলেও বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছিল।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও অতীতে সিআইএর গোপন অপারেশনের অভিযোগ রয়েছে। ইরাক যুদ্ধের সময় গোপন আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা, ইরানে গোপন নাশকতামূলক তৎপরতা, এমনকি স্নায়ুযুদ্ধের সময় কিউবা, চিলি ও কঙ্গোসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে।

ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার নামে সিআইএ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অভিযান পরিচালনা করে আসছে।ৃ

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!