আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই বিশেষ এই দিন। নানা আয়োজন ছাড়াও উপহার, শুভেচ্ছা বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে এই দিনে মানুষ মায়েদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকে।
মা দিবসের ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রাচীন গ্রিসে দেবতাদের মা ‘রিয়াকে’ সম্মান জানিয়ে উৎসব পালনের প্রচলন ছিল। পরে ইউরোপে খ্রিস্টানদের মধ্যে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি দিন পালিত হতে শুরু করে। তবে আধুনিক মা দিবসের ধারণা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পালিত মা দিবস চালুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আনা জার্ভিস। তিনি তার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক মা দিবস উদ্যাপন করেন। তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় আহত সৈনিকদের সেবায় কাজ করেছিলেন।
আনা জার্ভিস চেয়েছিলেন, মায়েদের অবদানকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করা হোক। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদারস ডে’ ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশেও দিবসটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিবারে মায়ের অবদান স্মরণ করতে অনেকে এদিন মাকে ফুল, কার্ড বা ছোট উপহার দেন। কেউ কেউ মায়ের সঙ্গে সময় কাটান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেন।
তবে মনে রাখতে হবে, মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনই যথেষ্ট নয়। বছরের প্রতিটি দিনই মায়ের প্রতি সম্মান ও যত্ন দেখানো উচিত। তারপরও মা দিবস মানুষকে মায়ের অবদান নতুন করে মনে করিয়ে দেয় এবং সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সহায়তা করে।
কালের সমাজ/এসআর

