অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করে আলোচনায় উঠে এসেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনার আজান আওয়াইস। শান্ত, ধৈর্যশীল এবং নিয়ন্ত্রিত এক ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় ভুগিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের ছোট তালিকায় নাম লেখানোর পাশাপাশি ওপেনার হিসেবে গড়েছেন বিশেষ কীর্তি।
শনিবার মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ইনিংস শুরু করেছিলেন আজান। ওপারে ছিলেন ইমাম-উল-হক। শুরু থেকে বেশ সংযত ছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। তবে, সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করার পর উদ্যাপনে ধরা পড়ে তার অনুভূতি। ধারাভাষ্যকক্ষে বসে সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা তখন বলছিলেন, পুরো ইনিংসে এই প্রথম আজানকে কিছুটা আবেগপ্রবণ দেখাল।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বিপক্ষে শুরু থেকেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে নাহিদ রানার গতির মুখে পড়তে হয় বারবার। গতকাল বিকেলে নাহিদের একটি বল সরাসরি তার হেলমেটে আঘাত হানে। পরে কনকাশন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে। তবে, সেই ধাক্কা কাটিয়ে আবার ব্যাট হাতে মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। নাহিদের পাশাপাশি তাসিকন আহমেদ ও এবাদত হোসাইনের গতি, আবার স্পিনে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম সবাইকে সামলেছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
আজ (রোববার) তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ৮৫ রান নিয়ে। আজ দিনের প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ১৫৩ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পথে ছিল ১৪টি চার। তবে শতক পূরণের পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে নাজমুল হোসাইন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে থামেন ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস রয়েছে আজানের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৩ ম্যাচে তার সেঞ্চুরি এখন ১০টি। আছে একটি ডাবল সেঞ্চুরিও। সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই জাতীয় দলে জায়গা করে দেয় তাকে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখলেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।
৭৪ বছরের পাকিস্তান টেস্ট ইতিহাসে এটি ছিল তাদের ৪৬৮তম ম্যাচ। এই দীর্ঘ যাত্রায় অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের সংখ্যা এখন ১৫। ওপেনার হিসেবে এমন কীর্তি গড়া সপ্তম ব্যাটসম্যান হলেন আজান। তার আগে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন খালিদ ইবাদুল্লাহ, জাভেদ মিয়ানদাদ, সেলিম মালিক, মোহাম্মদ ওয়াসিম, আলী নকভী, আজহার মাহমুদ, ইউনিস খান, তৌফিক ওমর, ইয়াসির হামিদ, ফাওয়াদ আলম, উমর আকমল, আবিদ আলী ও কামরান গুলাম।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ২০০১ সালে মুলতান টেস্টে তৌফিক ওমর করেছিলেন ১০৪ রান। এরপর ২০০৩ সালে করাচি টেস্টে ইয়াসির হামিদ দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন। প্রথম ইনিংসে ১৭০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান, দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। এবার সেই ইতিহাস বদলাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
কালের সমাজ/এসআর

