বৈশাখের খরতাপ, রুক্ষ প্রকৃতি ও দাবদাহের মধ্যেও মাগুরার মহম্মদপুরে এখন যেন অন্য এক ঋতুর আবহ। চারদিকে শুধুই আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়ার দাপট। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল চত্বর ও পাড়া মহল্লায় কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। তপ্ত গ্রীষ্মের মাঝেও এই ফুল যেন এনে দিয়েছে এক চিলতে প্রশান্তি।
মহম্মদপুরের পথে প্রান্তরে এখন চোখে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার লাল-কমলা ফুলের মনোমুগ্ধকর সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁক গলে সূর্যের আলো যখন রক্তিম ফুলের উপর এসে পড়ে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই রঙতুলিতে এঁকেছে এক অপার্থিব দৃশ্য। সড়কের মোড়, স্কুল প্রাঙ্গণ, অফিস চত্বর কিংবা পুকুরপাড়, সবখানেই কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে মানুষকে।
প্রচন্ড গরমে ক্লান্ত মানুষও এই সৌন্দর্যে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন। ঝরা ফুলে লাল গালিচা বিছানো পথে হাঁটতে হাঁটতে অনেকের মনেই ভেসে উঠছে পুরনো দিনের স্মৃতি আর চিরচেনা গান, ‘রং লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রং লেগেছে আমার অবুঝ মনে’। দখিনা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো যেন জানান দিচ্ছে, রুক্ষতার মাঝেও সৌন্দর্যের জয়গান থেমে থাকে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন কৃষ্ণচূড়া তার পূর্ণ যৌবনে ধরা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ এবং প্রধান সড়কের পাশের গাছগুলো নজর কাড়ছে পথচারীদের। অনেকে থেমে মোবাইল ফোনে বন্দী করছেন এই রক্তিম সৌন্দর্য। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি প্রবীণরাও মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতির এই মোহনীয় সাজে।
কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এটি গ্রীষ্মের এক অনন্য বার্তাবাহকও। সাধারণত উজ্জ্বল লাল রঙের এই ফুল কোথাও কোথাও কমলা ও হলুদ আভাতেও দেখা যায়। পাঁচ পাপড়ির এই ফুল যেন নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া এক শিল্পকর্ম। বসন্তের বিদায়ের পর গ্রীষ্মের খররৌদ্রেই ফুটে ওঠে এর পূর্ণ সৌন্দর্য।
ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতিবছরই কৃষ্ণচূড়া ফিরে আসে আপন মহিমায়। তবে গ্রীষ্মের দাবদাহে এর রক্তিম সৌন্দর্য যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতার মাঝেও সৌন্দর্য বিকশিত হতে জানে। মহম্মদপুরের আকাশজুড়ে এখন সেই লাল আগুনের শিখা, যা শুধু চোখ জুড়ায় না, মানুষের মনেও ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “গ্রীষ্মের এই রূঢ় সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে এক অন্যরকম মাধুর্য দিয়েছে। বিশেষ করে তীব্র রোদের মধ্যে এই ফুলের সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে ওঠে। আমাদের হাসপাতাল ক্যাম্পাসেও কয়েকটি গাছ এখন রক্তিম রঙে সেজেছে। এখানে আসা রোগী ও স্বজনরাও এই দৃশ্য দেখে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের দেশীয় বৃক্ষ আরও বেশি রোপণ করা প্রয়োজন।”
কালের সমাজ/কে.পি

