ঢাকা সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

আজ বিশ্ব লেবুর শরবত দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৩, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম আজ বিশ্ব লেবুর শরবত দিবস

গরমের দিনে এক গ্লাস লেবুর শরবত যেন মুহূর্তেই শরীরে এনে দেয় স্বস্তি। টক-মিষ্টি এই পানীয় শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, বরং বিশ্বজুড়ে এটি ঘিরে পালিত হয় একটি বিশেষ দিন, লেবুর শরবত দিবস। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয় লেবুর শরবত বিক্রির মাধ্যমে শিশুদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

কীভাবে শুরু হলো এই দিন 
এই দিবসের সূচনা হয় ২০০৭ সালে। এই দিবসের ধারণা আসে এক পারিবারিক ঘটনা থেকে। লিসা ও মাইকেল হোলথাউস এই উদ্যোগটি শুরু করেন শিশুদের ব্যবসায়িক দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, অর্থ ব্যবস্থাপনা, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং দলগত কাজের শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জন করতে পারে। লিসার শৈশবের একটি অভিজ্ঞতা এই ধারণার জন্ম দেয়। ছোটবেলায় লিসা একটি পোষা কচ্ছপ কেনার জন্য লেবুর শরবত বিক্রি করেছিলেন, আর তার বাবা মাইকেল হোলথাউস তাকে নিজে উপার্জন করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে এই বিশেষ দিবসের ভিত্তি তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক শিশু এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

লেবুর শরবতের ইতিহাস 
লেবুর শরবতের ইতিহাসও বেশ পুরোনো ও সমৃদ্ধ। ধারণা করা হয়, লেবুর উৎপত্তি প্রথম শতকে ভারতে, যা পরে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ত্রয়োদশ শতকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে লেবুর পানীয় তৈরি শুরু হয়, যা তখন ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। পরে সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় বসতকারীরা এই পানীয় আমেরিকায় নিয়ে যায়। শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে শিশুদের ছোট ব্যবসা শেখানোর মাধ্যম হিসেবে লেবুর শরবতের স্টল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

লেবুর শরবত আজ শুধু একটি পানীয় নয়, বরং শিশুদের উদ্যোগী মানসিকতা গড়ে তোলার একটি প্রতীকী আয়োজন। যা বিশ্বজুড়ে একটি বিশেষ দিনের রূপ নিয়েছে।

লেবুর শরবতের উপকারিতা :

রোগ প্রতিরোধক
লেবুর রসে রয়েছে ভিটামিন সি এবং আয়রন, যা ঠা-া-জ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর। লেবুর রসে থাকা পটাশিয়াম মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, লেবুর রসে থাকা অ্যাসকরবিক এসিড পেট জ্বালাপুড়া দূর করে; অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট দূরীকরণে সহায়ক। লেবুর শরবত কফ কমাতেও সাহায্য করে।

হজমে সহায়ক
শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকারক পদার্থ বের করতে সাহায্য করে লেবু পানি। ফলে ইউরিনেশন ভালো হয়। লিভার ভালো থাকে।

ত্বক দাগ মুক্ত রাখে
লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। রক্ত পরিষ্কার রেখে ত্বকের দাগ ছোপ দূরে রাখে।

এনার্জি বাড়িয়ে মুড ভালো রাখে
লেবু খেলে শরীরে পজিটিভ এনার্জি বাড়ে। উৎকণ্ঠা ও অবসাদ দূরে রেখে মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পিএইচ ব্যালেন্স
লেবু শরীরের পিএইচ ব্যালেন্স সঠিক রাখতে সাহায্য করে। লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মেটাবলিজমের পর ক্ষার হিসেবে কাজ করে। ফলে রক্তের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় থাকে।

লিম্ফ সিস্টেম
গরম পানিতে লেবু দিয়ে খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। শরীরে ফ্লুইডের সঠিক মাত্রা বজায় রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, রক্তচাপজনিত সমস্যা দূরে রাখে। ঘুম ভালো হয়।

ওজন কমায়
লেবুতে থাকা পেকটিন ফাইবার খিদে কমাতে সাহায্য করে। সকালে উঠে গরম পানি দিয়ে লেবু খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে।

লেবুর শরবত কীভাবে বানাবেন
পরিষ্কার কুসুম গরম পানিতে লেবুর শরবত বানান। উষ্ণ গরম পানিতে টাটকা লেবুর অর্ধেক চিপে এক গ্লাস শরবত বানিয়ে ঝাঁকিয়ে নিন।

সতর্কতা
লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই শরবত খাবার পরে কুলি অথবা ব্রাশ করে ফেলতে পারেন। তবে দিনে বার বার চিনি ছাড়া লেবুর শরবত খাওয়াতে শরীরের ক্ষতির কোনো কারণ নেই। তবে অনেকের ধারণা, যাদের ব্লাড প্রেসার লো তারা লেবু খেলে ব্লাড প্রেসার আরো লো হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা পেতে নিয়মিত লেবু পান করতে হবে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এ পানীয় পান করবেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!