ঢাকা সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

মহম্মদপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তা

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | মে ৪, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম মহম্মদপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তা

দিগন্তজোড়া সোনালী ধানের মাঠে এখন স্বপ্নের দৃশ্য। কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রমে মাঠজুড়ে ফলেছে বোরো ধানের বাম্পার ফলন। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝেও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কৃষকদের চোখে-মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা, শ্রমিক সংকট এবং বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা তাদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫৪ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা সময়মতো বীজতলা তৈরি, জমি কর্ষণ-প্রস্তুত, ও চারা রোপণ সম্পন্ন করেন। ফলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে এই সফলতার পথ মোটেও সহজ ছিল না। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোরো ধানে থোড় আসার সময় তীব্র খরা ও প্রচন্ড তাপদাহে তারা বড় সংকটে পড়েন। সেচের জন্য ডিজেল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক কৃষক তখন হতাশ হয়ে পড়লেও পরে বৃষ্টিপাত ও জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। নতুন উদ্যমে পরিচর্যা করায় প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলাজুড়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে এই ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরি কৃষকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে ধানের তুলনামূলক কম দাম তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

কাওড়া গ্রামের কৃষক মোবারক মোল্যা বলেন, “আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু খরা আর তেলের সংকটে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর ঝড়ের ভয়। ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত শান্তি নেই।”

তল্লাবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক আরজান আলী বলেন, “অনেক কষ্ট করে আবাদ টিকিয়ে রেখেছি। এখন প্রতিমন ধানের দাম ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে। এই দামে ধান বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে কি না সন্দেহ।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার পীযুষ রায় বলেন, “এবার বোরো ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। খরা ও জ্বালানি সংকটের সময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবেন। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে দ্রুত ধান ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!