পৃথিবী গোলাকার হলেও মানুষের বসতির এক ধরনের সীমানা আছে অতি উত্তরে ও অতি দক্ষিণে কোথায় মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে দুইটি দূরবর্তী শহরের নাম, যাদের অনেকেই পৃথিবীর শেষ প্রান্ত বলে থাকেন।
দক্ষিণ গোলার্ধে মানুষের স্থায়ী বসতি ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে আসে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে কয়েকটি ছোট জনপদ। তবে সবচেয়ে দক্ষিণের আনুষ্ঠানিক শহর হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার উশুইয়া।
টিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে অবস্থিত এই শহরে প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ বসবাস করে। আধুনিক অবকাঠামো, পর্যটন এবং বন্দরনির্ভর অর্থনীতির কারণে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শহরের পরিচয় বহন করে। এখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের জাহাজও যাত্রা শুরু করে।
উত্তর মেরুর দিকে যেতে যেতে আবহাওয়া কঠিন হতে থাকে। কানাডার একেবারে উত্তরের অস্থায়ী বসতি অ্যালার্ট থাকলেও সেখানে স্থায়ী শহর নেই। এই দিক থেকে সবচেয়ে উত্তরের আনুষ্ঠানিক শহর হলো যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার উটকিয়াগভিক (আগের নাম ব্যারো)।
প্রায় ৫ হাজার মানুষের এই শহরটি আর্কটিক সার্কেলের অনেক ভেতরে অবস্থিত। এখানে শীতকালে প্রায় ৬৫ দিন সূর্য ওঠে না, আবার গ্রীষ্মে টানা প্রায় আড়াই মাস সূর্য অস্ত যায় না। এই চরম পরিবেশেও স্থানীয় ইনুপিয়াত জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে।
মজার বিষয় হলো, দক্ষিণের উশুইয়ার সমান অক্ষাংশে উত্তর গোলার্ধে গেলে কোনো “শেষ প্রান্ত” নয়, বরং ইউরোপের অনেক সাধারণ শহর পাওয়া যায়। কারণ উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ ও জলবায়ু তুলনামূলকভাবে বেশি বাসযোগ্য।
পৃথিবীর এই দুই প্রান্ত উশুইয়া ও উটকিয়াগভিক শুধু ভৌগোলিক সীমা নয়, বরং মানুষের অভিযোজন ক্ষমতার অনন্য উদাহরণ। চরম ঠান্ডা, দীর্ঘ অন্ধকার কিংবা অবিরাম দিনের মধ্যেও মানুষ কীভাবে টিকে থাকে, এই দুই শহর তার জীবন্ত সাক্ষী।
কালের সমাজ/এসআর

