ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ইউরোপের তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম ইউরোপের তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে
ছবি সংগ্রহ

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশজুড়ে দেখা দিয়েছে নানা শারীরিক অসুস্থতা, প্রাণহানি এবং ভেঙে পড়েছে নাগরিক অবকাঠামো।

সম্প্রতি জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র এবং পোল্যান্ডে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্রান্সেও গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড ছুঁইছুঁই, যার ফলে প্রায় এক হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক . হ্যান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপকে এখন শীতকালীন ফ্লুর মতোই স্থায়ী প্রস্তুতি নিয়ে এই চরম গরমের মোকাবিলা করতে হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, দৃশ্যপটটি এখন ইউরোপের জন্য একটি স্থায়ী বা নতুন স্বাভাবিক রূপ নিতে যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন ডাব্লিউডাব্লিউএ- একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র তাপপ্রবাহের এই প্রবণতা ২০০৩ সালের তুলনায় এখন শতগুণ বেশি শক্তিশালী এবং ৫০ বছর আগে যা ছিল সম্পূর্ণ অকল্পনীয়।

গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১৯৮০-এর দশক থেকে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা একে লুডোর ছক্কায় চাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে চরম আবহাওয়ার সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে একটি স্থবির উচ্চ-চাপ বলয়, যা ‍‍`হিট ডোম‍‍` নামে পরিচিত। এই সিস্টেমটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তীব্র গরমকে আটকে রাখছে।

রিডিং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হ্যানা ক্লোক আল জাজিরাকে জানান, আমরা এখন মূলত কয়েক দশক আগের দূষণের খেসারত দিচ্ছি, কারণ জলবায়ু ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া জানাতে কিছুটা সময় নেয়। আল্পস পর্বতের হিমবাহগুলো ইতোমধ্যেই এমন এক পর্যায়ে সংকুচিত হয়ে গেছে যা আর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে গ্রীষ্মকালে ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর পানির প্রবাহ চিরতরে কমে গেছে।

ক্রমবর্ধমান এই তাপমাত্রা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।দ্য ল্যানসেট কাউন্টডাউন ইউরোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী বিগত বছরেই ইউরোপজুড়ে গরমে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। . হ্যান্স ক্লুগে উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছিল শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী করে, যা তাপ আটকে রাখে কিন্তু বের হতে দেয় না। ফলে বড় ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিকে জরুরি আপৎকালীন সংকট হিসেবে না দেখে একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। এখনও যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায় এবং পানি বাসস্থান অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়, তবেই ২০৫০ সালের ইউরোপের গ্রীষ্মকালকে পুরোপুরি বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

কালের সমাজ/ এ এইচ বি 

Link copied!