মরক্কো-নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ লড়াই যেন থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তা, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ পর্ব শুরু হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার ম্যাচ দিয়ে। আর টুর্নামেন্টের আরেক আয়োজক মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মুখোমুখি হয় মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে, যেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় পায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। ১-০ ব্যবধানে ডাচদের জয় তখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে আসা শেমসেদ্দিন তালবির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জাল খুঁজে নেন ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। শেষ মুহূর্তের সেই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কো শিবির, আর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ৯৮তম মিনিটে তালবির পাস থেকে ইসমাইল সাইবারি একেবারে গোলের সামনে পৌঁছে গেলেও নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেন অসাধারণ দক্ষতায় বাঁ পা বাড়িয়ে নিশ্চিত গোল রুখে দেন। অন্যদিকে ডাচরাও সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষকে হতাশ করেন। ফলে অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল হয়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ১৯তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে নেইল এল আইনাউইয়ের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ভারব্রুখেন। দুই মিনিট পর আবারও গোল বাঁচিয়ে নেদারল্যান্ডসকে স্বস্তি দেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে নেদারল্যান্ডসও বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ৪৪তম মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের পাস থেকে মিকি ফন দে ফেন শট নিলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাকিমির পাস থেকে ছয় গজ দূরে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইসমাইল সাইবারি। হতাশায় সঙ্গে সঙ্গেই মাথায় হাত দেন এই মিডফিল্ডার। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট।
দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে ইসা দিওপের সমতাসূচক গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায়। এরপর অতিরিক্ত সময়েও দুই দল একে অপরকে ভেদ করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানেই শেষ হাসি হাসে মরক্কো। স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস এই লড়াই শেষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দলটি।
দুই দলের শক্তি, সমার্থ্য ও ছন্দের কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। অবশেষে তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। ট্রাইব্রেকারের চিত্র নিম্নে:
মরক্কো প্রথম শট: মিস! এল আয়নাউয়ি গোল দিতে পারেননি।
নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় শট: মিস! জাস্টিন ক্লাইভার্ট মেরেছেন পোস্টে।
মরক্কো দ্বিতীয় শট: একটুর জন্য গোল পেলেন রাহিমি!
নেদারল্যান্ডস তৃতীয় শট: গোল। পেয়েছেন ভেগহোর্স্ট।
মরক্কো তৃতীয় শট: শেমসদিন তালবির গোল।
নেদারল্যান্ডস চতুর্থ শট: মিস! কী করলেন কুইন্টেন টিম্বার্স। বল মারলেন পোস্টের বাইরে।
মরক্কো চতুর্থ শট: আশরাফ হাকিমিও গোল দিতে পারলেন না।
নেদারল্যান্ডস পঞ্চম শট: সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দিলেন ইয়াসিন বুনো।
মরক্কো পঞ্চম শট: সাইবারির গোল এবং মরক্কো শেষ ১৬ তে।
এদিকে, নাটকীয় টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানিও। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হেরেছে। এর আগে দুই দলের ১২০ মিনিটের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হয়েছিল।
কালের সমাজ/এসআর

