রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ করে কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকার অনুমোদিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি সিএনভিআর তথা (ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-ছেড়ে দেওয়া) যা জলাতঙ্ক প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা জোরদারের দাবি মানববন্ধন করেছে প্রাণিপ্রেমীরা।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানবিক মানববন্ধন কর্মসূচীতে প্রাণিকল্যাণকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিক অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকার অনুমোদিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হলো সিএনভিআর, যা জলাতঙ্ক প্রতিরোধেও কার্যকর।
আয়োজকরা বলেন, মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের জন্য হত্যা নয়, বরং মানবিক, আইনসম্মত ও টেকসই সমাধানই একমাত্র পথ।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। গত এক দশকে টিকাদান ও নির্বীজন কার্যক্রমের ফলে জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা মানবিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধানের সাফল্য প্রমাণ করে।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রাণিকল্যাণ আইন বাস্তবায়ন, কুকুর নিধন বন্ধ, ঈঘঠজ সম্প্রসারণ, গণটিকাদান জোরদার এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে সমগ্র পথপ্রাণীকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। প্রাণিপ্রেমীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। ইসলামে প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার শিক্ষা রয়েছে, তাই নিষ্ঠুরতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে পথকুকুর নিধনের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, হত্যা বা অপ্রয়োজনীয় কষ্ট প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ।
কালের সমাজ/এএইচবি

