বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদকে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রয়োজনীয় সকল নথি পাঠানো হয়েছে।
শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান করেন।
বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত গতিতে কাজ করছে। চলতি মাসের ১২ জুন আবুধাবি (ইউএই) সরকারের ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমাদের এনসিবিকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেফতার করেছে। আমাদের জারি করা রেড নোটিশের মাধ্যমে তারা বেনজীর আহমদকে গ্রেফতার করে।
আমি সেদিন বিকেলেই জাতীয় সংসদে জাতিকে অবহিত করেছি। সেখানে বলেছি ই-মেইলে তারা অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে যেন আমাদের সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা ৩০ দিন নয় তার পরের দিনই কাগজপত্র পাঠিয়েছি। ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ অনেক কাগজ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবার আরবিতে অনুবাদ করতে হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ অফিসাররা সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪৪ পাতার কাগজপত্র তৈরির কাজ করেছে। রাত ১০টার সময় সংসদে বসে সেটি আমি সই করেছি। সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনঅফিশিয়াল কপি দিয়েছি।
পরদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অফিশিয়ালি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করেন। একই দিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবিতে ট্রান্সলেট করে ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে এবং লোকাল ইউএই অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে।
আশাকরি ইউএই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরাতে কাগজপত্র পাঠানোর পর তারা কোনো উত্তর দিয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা এখনো কিছু পাঠায়নি। তাদের দেশের আইন অনুসারে ফেরত পাঠানোর একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। শুক্র-শনিবার সেই দেশে হলিডে। আজকের দিন গেলে আগামীকাল রোববার অফিশিয়ালি খোঁজ নেব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি ও ইউএই ফেডারেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের ই-মেইলে অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে কাগজপত্র পাঠাতে। ইউএন চার্টার অনুসারে আমরা কিছু কিছু বিষয়ে স্বাক্ষরিত দেশ। সেখানে তারাও (ইউএই) সই করেছে। ইউএই’র সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) চুক্তি রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
মন্ত্রী বলেন, আজকের এই স্বীকৃতি সেই অগ্রযাত্রারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমি বিশ্বাস করি, এই সম্মাননা শুধু ১৫ জন সদস্যকে উৎসাহিত করবে না, বরং বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সম্মাননাপ্রাপ্ত সাহসী ও মেধাবী পুলিশ সদস্যগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/এএইচবি

