দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৫-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা ক্ষুদে ফুটবলারদের নৈপুণ্য সরাসরি উপভোগ করতে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছান। এ সময় তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ফাইনাল ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করেন।
চার বিদ্যালয়ের লড়াইয়ে চূড়ান্ত পর্ব
সারা দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে দীর্ঘ বাছাইপর্ব শেষে মোট চারটি বিদ্যালয় ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে।
বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে অনুষ্ঠিত বালক বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে পরাজিত করে বালক বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ
গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নেয়। অর্থাৎ প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃণমূল থেকে প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ
গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ অতিক্রম করে সেরা দলগুলো রাজধানীতে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
আয়োজকদের মতে, তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশব্যাপী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের সমাজ /এএইচবি

