ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসরায়েলকে সমর্থন দিলো আর্জেন্টিনা

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ১৩, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম ইসরায়েলকে সমর্থন দিলো আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইহুদি-খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করে গেল সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি অন্যতম প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মীয় নেতা রাব্বি মেনাহেম মেন্ডেল শ্নিয়ারসনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।  

গেল সোমবার (৮ জুন) রাজধানী বুয়েনোস আইরেসের পালাসিও লিবের্তাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে প্রায় ১৮০০ জন ইহুদি উপস্থিত ছিলেন।

মিলেই সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। এ সময় বরাবরের মতো তিনি ইসরায়েল ও ইহুদি জাতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বুধবার (১০ জুন) ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তা গঠনে সহজ কিন্তু পরিণামে গভীর। যখন কেউ জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধ গ্রহণ করে, তখন আধ্যাত্মিক ও পার্থিব জীবন একই সুরে সমন্বিত হয়।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ছিল চাবাদ আন্দোলনের একটি বড় অনুষ্ঠানে কোনো দায়িত্বশীল অ-ইহুদি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন। নিজেকে ‘নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেয়া মিলেইয়ের জন্য ইহুদি ধর্মের প্রতি প্রশংসা প্রকাশের দীর্ঘ তালিকার এটি ছিল সর্বশেষ সংযোজন।

মিলেইয়ের ইহুদিদের প্রতি আকৃষ্টতা আগে থেকেই : আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্ম ও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে আসছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় অংশ হিসেবে ইসরায়েলপন্থি অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং এই অবস্থানকে তার সকল কর্মসূচির মূল ভিত্তি বানিয়েছেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্কে শ্নিয়ারসনের সমাধি পরিদর্শনে যান এবং জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়ালেও সফর করেন।

২০২৪ সালে মায়ামির একটি চাবাদ সিনাগগেও তাকে সম্মানিত করা হয়েছিল। সেখানে তিনি তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তার ইহুদি বংশধারা রয়েছে। তিনি জানান, ইহুদি ধর্ম নিয়ে তার অধ্যয়ন দীর্ঘদিনের এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরের পর ধর্মান্তরিত হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

তার ৪০ মিনিটের ভাষণে তিনি মূলত ইহুদি ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেন এবং অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি হিসেবে তা তুলে ধরেন। তার এমন অবস্থানের কারণে বেশ গর্ববোধ করেন দেশটিতে থাকা ইহুদিরা।

ইহুদিদের গন্তব্য এখন আর্জেন্টিনা : ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষ নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইহুদিদের মিলেইয়ের নেতৃত্বে থাকা আর্জেন্টিনাকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো সম্প্রতি ব্রিটেন এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসকারী ইহুদিদের উদ্দেশে একটি বার্তায় আর্জেন্টিনার আকর্ষণীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি উন্নতিশীল দেশ, যেখানে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। রৌদ্রোজ্জ্বল, বহু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। এই দেশের রয়েছে ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। ব্রিটিশ এবং ইউরোপীয় ইহুদিদের আর্জেন্টিনাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।’

আর্জেন্টিনার এমন ইহুদি প্রেম নিয়ে কথা বলেছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়াল সেলা। তিনি বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একমত। অবশ্যই, ইহুদি জীবনযাপনের জন্য ইসরায়েল সবসময়ই সেরা জায়গা। এমনকি ইউরোপের চেয়ে ইহুদিদের জন্য আর্জেন্টিনা অনেক ভালো একটি জায়গা।’

মিলেইয়ের ইসরায়েল সফর : গত এপ্রিলে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। দুই নেতা ঘোষণা দেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেল আবিব ও বুয়েনোস আইরেসের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হবে। পাশাপাশি জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার দূতাবাস স্থানান্তর করবেন বলেও জানান মিলেই।

এ সময় দুই দেশের মধ্যকার চুক্তির নামকরণ করা হয় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এর অনুকরণে, যা মূলত কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। এ সময় নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেন যে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মডেল লাতিন আমেরিকাতেও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে মিলেই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-কে দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ইসরায়েল সফরকালে পশ্চিম জেরুজালেমের পবিত্র ওয়েস্টার্ন ওয়ালও পরিদর্শন করেন মিলেই।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!