ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

ডায়ালাইসিসে স্বস্তি, কমবে ব্যয় ও সংক্রমণের ঝুঁকি

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ১৩, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম ডায়ালাইসিসে স্বস্তি, কমবে ব্যয় ও সংক্রমণের ঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি

কিডনি রোগে আক্রান্ত লাখো মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী ‘ডায়ালাইসিস ফিল্টার’ আমদানিতে বিদ্যমান ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ডায়ালাইসিস ফিল্টার কিডনি বিকল রোগীদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপরিহার্য চিকিৎসাসামগ্রী। বর্তমানে আমদানির ওপর আরোপিত করের কারণে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সেই চাপ কমাতেই ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি ডায়ালাইসিস সেশনে রোগীর ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক স্বস্তিই দেবে না, বরং রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। একটি সেশনের ব্যয় কয়েক হাজার টাকা হওয়ায় বহু পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা ব্যয় কমে গেলে রোগীরা প্রয়োজনীয় সময়মতো ডায়ালাইসিস করাতে উৎসাহিত হবেন। এতে জটিলতা কমবে এবং রোগীদের জীবনমান উন্নত হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকিও হ্রাস পেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসা। দেশে অনেক রোগী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে একই ডায়ালাইজার বারবার ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি হেপাটাইটিস সি-সহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নতুন কর সুবিধার ফলে রোগীরা তুলনামূলক কম খরচে নতুন ডায়ালাইজার ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চিকিৎসা ব্যয় কমানো অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগ প্রতিরোধের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কিডনি রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই চিকিৎসা সহজলভ্য করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়াই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সব মিলিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টারে কর ছাড়ের প্রস্তাব কিডনি রোগীদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে লাখো রোগী ও তাদের পরিবারের আর্থিক বোঝা কমবে এবং নিরাপদ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
কালের সমাজ/এএইচবি 

Link copied!