চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করে পুলিশ বলছে, ধারের টাকা শোধ না করার উদ্দেশ্যে হলফনামার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই এ দুই হত্যাকাণ্ড ঘটান তাদেরই এক স্বজন।
অটোরিকশা কেনার জন্য নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে সোয়া লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
সোমবার দুপুরে নিজ জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
শনিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় খুন হন স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় রোববার রাতে সুজন বড়ুয়ার চাচাত ভাই, প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার সাথে একমাত্র তেজু নিজেই জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তার সাথে সুজন বড়ুয়ার টাকার লেনদেন ছিল। অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নেয় এই শর্তে যে, প্রতি মাসে সুদসহ কিস্তি আকারে টাকা পরিশোধ করবে।
এটার জন্য একটা লিখিত স্ট্যাম্প ছিল, যে স্ট্যাম্প সংরক্ষিত ছিল সুজন বড়ুয়ার কাছে। এই স্ট্যাম্পের কারণে মাসে মাসে পরিশোধ করত। তবে রেগুলার দিতে পারত না। এ কারণে অন্তঃকলহ দেখা দেয়। সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তখন তেজু প্লান করতে থাকে, কীভাবে টাকাটা না দিতে হয়। ওই স্ট্যাম্পটা যদি কোনোভাবে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে হয়তো টাকা দিতে হবে না বা সুজন টাকা দাবি করলেও বলতে পারবে যে সে টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, স্ট্যাম্প নেওয়ার জন্য সুজন বড়ুয়ার বাড়ির পেছনের দিকে, সেখানে একটা দরজা আছে; সেখানে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেজু অবস্থান করতে থাকে।
রাত পৌনে ১১টার দিকে দরজা খুলে এনি বড়ুয়া বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাৎক্ষণিক তাকে ধরে ফেলে তেজপ্রিয়। তখন এনি চিৎকার করলে তাকে এলোপাথাড়ি চাকু মারে। এনির চিৎকার শুনে প্রিয়ন্তী দৌড়ে গেলে তাকেও চাকু মারে। ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পালানোর সময় সুজনের বাড়ির পেছনে ঝোপঝাড়ে চাকুটি ফেলে দেয় তেজু। পরে পুলিশ চাকুটি উদ্ধার করে। পরে রোববার রাতে পটিয়া থেকে তেজুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।
কালের সমাজ/এএইচবি

