বরগুনার সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ, গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তি এবং সড়কের পাশে পড়ে থাকা এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ রয়েছে। একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে তাঁকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
একই সময়ে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার একটি এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন কথিত মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন (কালু) ও তাঁর সহযোগীরা। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কালু বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন (কালু)। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মিজানুর রহমান পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরদিকে বামনা উপজেলাতেও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে বলে জানা গেছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, `সদর উপজেলায় উদ্ধার হওয়া দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।`
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কালের সমাজ/এসআর

