ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধ: নওগাঁয় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল, নওগাঁ | জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধ: নওগাঁয় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁয় গরুর বাছুর বাড়ির উঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাগ্নির দায়ের করা ‘মিথ্যা ও সাজানো’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। মামলাটিতে ভুয়া গর্ভপাতের নাটক সাজিয়ে আসামিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের পারবাঁকাপুর মোল্লাপাড়ায় ভুক্তভোগীদের বাড়ির সামনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মোনায়েম মোল্লা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে গরুর বাছুর ভাগ্নি পাপিয়ার বাড়ির উঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পাপিয়া ও তার ভাই মোর্শেদ লাঠিসোটা নিয়ে মোনায়েমের ছেলে ইমরানের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ইমরানের মাড়ির দাঁত ও হাড় ফেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইমরান যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই সুযোগে ভাগ্নি পাপিয়া বাদী হয়ে নওগাঁ সদর আমলি আদালতে ৪ জনকে আসামি করে একটি কাল্পনিক মামলা (মামলা নং- ৪৯/২০২৬) দায়ের করেন।

আসামিপক্ষের দাবি, মামলায় পাপিয়ার মেয়ে সুরাইয়াকে সাক্ষী করে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে— মারামারির সময় সুরাইয়ার পেটে লাথি লাগায় তার সাত সপ্তাহের গর্ভজাত সন্তান নষ্ট হয়েছে। অথচ ঘটনার দিন সুরাইয়া রাণীনগর উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে ছিলেন। মামলাটি স্পর্শকাতর করতেই এই ‘গর্ভপাতের’ নাটক সাজানো হয়েছে, যার কোনো চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই। এছাড়া মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রথমে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী পাপিয়া আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার না পেয়ে আদালতে গেছি। তবে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসা করে আমার চিকিৎসার খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলে নিতে রাজি আছি।’

বর্তমানে মামলাটি জেলা ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!