সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও সুরক্ষিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের মতে, দেশটি ইচ্ছাকৃতভাবে সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম মজুতের প্রবেশপথগুলোতে মাইন পেতে রাখা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় আধা টন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে পৌঁছানো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন, বিপজ্জনক এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। মাত্র এক মাস আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই ইউরেনিয়াম দখলের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, দেশটিকে ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর বা ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপজ্জনক উপাদান উত্তোলনের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কে নেবে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার আওতায় ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম প্রথমে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হবে, এরপর দেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে।
একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে ইরানিদের নিজেদের জন্যও এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর জন্য ভারী খননযন্ত্র এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রমের প্রয়োজন হবে, যা অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিউক্লিয়ার ম্যাটেরিয়াল রিমুভাল অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী স্কত রোকার বলেন, ‘যদি এই তথ্য সত্য হয়, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা আরও জটিল হয়ে পড়বে।’
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগ মজুত মধ্য ইরানের ইনফাহান নিউক্লিয়ান কমপ্লেক্সের ধসে পড়া সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু উপাদান অন্য স্থানেও সংরক্ষিত আছে।
কালের সমাজ/এসআর

