ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার কাম রেগুলেটর কাম ব্রীজ

নির্মাণ শেষ হলে সরাসরি উপকৃত হবে অর্ধ লক্ষ মানুষ

জিকরুল হক, নীলফামারী | জুন ১৩, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম নির্মাণ শেষ হলে সরাসরি উপকৃত হবে অর্ধ লক্ষ মানুষ
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ওয়ার কাম রেগুলেটর কাম ব্রীজের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ছবি : কালের সমাজ

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার কাম রেগুলেটর কাম ব্রীজ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বদরগঞ্জের মোস্তফাপুর ভাঙ্গরীর ঘাটে চিকলী নদীর ওপর ওই ব্রীজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য ব্যয় হচ্ছে ৩৭ দশমিক ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সরাসরি অর্ধ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, ওয়ার কাম রেগুলেটর কাম ব্রীজটি নির্মাণের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে। কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এই রেগুলেটরের মাধ্যমে বর্ষার পানি আটকিয়ে শুষ্ক মওসুমে জমিতে দেয়া হবেসেচ। এই পানি দিয়ে বোরো ধান চাষ হবে বাড়তি ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। এতে করে বছরে ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল মিলবে। সারা বছর নদীতে পানি থাকার ফলে দেশিয় মাছের বৃদ্ধি পাবে প্রজনন। নদীর দুই পাড়ের মানুষ করতে পারবে উন্নত জাতের হাঁস চাষ। এর ফলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জেলেরা বছর জুড়ে মাছ মারার সুযোগ পাবে। আর দেশি মাছের উৎপাদন বাড়লে আমিষের ঘাটতি পূরণে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

৮৬ মিটার দীর্ঘ ও সাত দশমিক পাঁচ মিটার প্রস্থের এই ব্রীজটির ভিত্তি থাকছে ৩১ দশমিক পাঁচ মিটার। ব্রীজের দুই পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে পাঁচ হাজার ৫৫০ মিটার নদী শাসন করা হবে। গড়ে তোলা হবে মিনি পিকনিক স্পট। ব্রীজের আশপাশ এলাকা যাতে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে দৃষ্টিনন্দন হয় সেই পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ সফলভাবে শেষ হলে ব্রীজ এলাকার কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষের আয়ের পথ খুলে যাবে।

মেসার্স হাসান এন্ড ব্রাদার্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন রবি এন্টারপ্রাইজের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল ইসলাম। সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহিদ হাসান করছেন কাজের মনিটরিং।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আখিনুজ্জামান বলেন, অবকাঠামোটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি ব্যবহার করে অল্প খরচে কৃষকরা সেচ দিতে পারবে। ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং বৃদ্ধি পাবে উৎপাদন। নদীর পানিতে ফাইটো প্লাংকটন থাকার ফলে জমিতে সার দিতে হয় কম। এছাড়াও নদীর পানি ব্যবহার করার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির প্রতি চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। নদীর উভয় পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। উন্নতি সাধিত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!