ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দুর্ঘটনা রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আমিরাবাদ-সাচার সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণ

মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) | জুন ১৩, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম আমিরাবাদ-সাচার সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ থেকে সাচারগামী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ঘটে আসা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সিএনজি চালকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদের সরাসরি উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সড়কের দুই পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা ও দৃষ্টিবাধা সৃষ্টি করা ডালপালা অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিরাবাদ-সাচার সড়কের বিভিন্ন বাঁক ও মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে গাছপালা ও ঝোপঝাড় বেড়ে ওঠায় যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বিশেষ করে রাতের বেলা এবং খারাপ আবহাওয়ায় সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠত।

এ অবস্থায় জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি নিরাপদ করতে উদ্যোগী হন স্থানীয় সিএনজি চালকরা। তাদের এই কার্যক্রমে একাত্মতা প্রকাশ করে সরেজমিনে উপস্থিত থাকেন চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদ। তিনি সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি চালকরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তার দুই পাশ পরিষ্কার করছেন। গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও ঝোপঝাড় অপসারণের ফলে এখন সড়কের দৃশ্যমানতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হয়েছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। তারা চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদ এবং অংশগ্রহণকারী সিএনজি চালকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, জনগণের নিরাপত্তার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের এমন সম্মিলিত উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

সচেতন মহলের অভিমত, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত দায়িত্ব জনগণের সমস্যার পাশে দাঁড়ানো। চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদ সেই দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে সিএনজি চালকরাও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজেদের কর্মব্যস্ততার মাঝেও তারা সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন।

এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এদিকে, আমিরাবাদ-সাচার সড়কে পরিচালিত এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। স্থানীয়দের মতে, চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদ ও সিএনজি চালকদের এই উদ্যোগ শুধু একটি সড়ক পরিষ্কার করার কাজ নয়; এটি জনসচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের নিরাপত্তার প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকারের প্রতীক।

নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্যে গৃহীত এই উদ্যোগকে দাউদকান্দি উপজেলার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!