কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টার শিকার ১২ জন শূন্যরেখায় রাত কাটিয়েছেন। ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান মেলেনি।
তবে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জন আদৌ ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বিজিবিকে জানিয়েছে বিএসএফ। সেই পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হবে।
শুক্রবার ভোররাতে বিএসএফ নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশ পুশ ইনের চেষ্টা করে। টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে তাদের ভারতীয় ভূ-খণ্ডে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
শনিবার সকাল ১০টায় ১৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় ভারতের রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসি সুনীল কুমার এবং ৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে ৩০ মিনিট পতাকা বৈঠক হয়। তবে শূন্যরেখায় অবস্থান করাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিজিবি বলছে, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাথুয়া সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই পুশ ইনের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পুশ ইনের ঘটনা মোকাবিলায় এলাকাবাসীও সজাগ আছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
পুশইন বন্ধে বিজিবির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ ‘দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দেওয়ার আশ্বাসের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ আশ্বাস দেওয়া হয়।
কালের সমাজ/এএইচবি

