জি-৭ সম্মেলনকে সামনে রেখে ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৩ থেকে ১৮ জুন ৬ দিনের সফরের উদ্দেশ্যে আজ শনিবার তিনি রওনা হবেন। মোদীর এই সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ১৩-১৪ জুন ফ্রান্সের নিস সফর করবেন মোদি। ১৪ জুন নিসে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
জি-৭ সম্মেলনকে সামনে রেখে ইউরোপে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছয় দিনের সফরে তিনি ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া যাচ্ছেন, যেখানে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ জুনের সফরে মোদি প্রথমে ফ্রান্সে যাবেন। সেখানে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দুই দেশের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন।
ফ্রান্স সফরের পর মোদি স্লোভাকিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। ১৯৯৩ সালে দেশটির স্বাধীনতার পর এটি হবে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। ব্রাতিস্লাভায় তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ও প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া স্লোভাক ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেবেন মোদি। এটি টানা অষ্টমবারের মতো জি-৭ সম্মেলনে ভারতের আমন্ত্রণ পাওয়ার ঘটনা। সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়; বরং ইউরোপের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার কৌশলগত প্রচেষ্টারই অংশ। বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় বাজারে ভারতের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য সফরটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে।
কালের সমাজ/ এএইচবি

