দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতি এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথকভাবে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ ডলার ১ সেন্ট বা প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮০ ডলার ৮৭ সেন্টে। এর আগের শুক্রবারও তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।
চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি আবার ‘টোলমুক্ত’ থাকবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে চালু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক সংকেত পাচ্ছেন। ফলে তেলের দামের ওপর ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির চাপ দ্রুত কমছে।
তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে বন্ধ ছিল হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
তবে যুদ্ধের ক্ষত পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে এখনও সময় লাগবে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো কত দ্রুত পুনরুদ্ধার হয় এবং তেল উৎপাদন ও রপ্তানি কত দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে, সেদিকে এখন নজর বিনিয়োগকারীদের। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে স্থিতিশীল হতে পারে।
কালের সমাজ/এএইচবি

