ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারতে নিজস্ব প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান তৈরিতে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ১১, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম ভারতে নিজস্ব প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান তৈরিতে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুইশত জাল পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে এসব টেস্ট রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, হায়দরাবাদভিত্তিক টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময় জাল পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ মার্চ থেকে এইচএএলের এয়ারক্রাফট ডিভিশন তেজস এমকে-১এ কর্মসূচির যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে ১৮টি ক্রয়াদেশ দেয়। এর আওতায় নমুনা, পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য কারিগরি নথি যাচাইয়ের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ ধরনের যন্ত্রাংশের মোট ১৭২টি উপাদান উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

ক্রয় শর্ত অনুযায়ী, বড় পরিসরে যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিতে হতো। পরে টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস বিভিন্ন গুণগত মানের সূচক, যেমন টেনসাইল স্ট্রেংথ, হার্ডনেস, ব্রেক লোড, শিয়ার, নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্টিং (এনডিটি), মাইক্রোস্ট্রাকচার এবং সল্ট স্প্রে পরীক্ষাসহ মোট ১৯৯টি পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তী যাচাইয়ে এইচএএলের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ প্রতিবেদনে উল্লেখিত হায়দরাবাদের অ্যাক্সিস ইনস্পেকশন সল্যুশনসের কাছে এসব নথির সত্যতা জানতে চায়। ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর পরিচালিত এক অডিটে এইচএএল জানতে পারে, ১৯৯টির একটিও অ্যাক্সিস ইনস্পেকশন সল্যুশনস থেকে ইস্যু করা হয়নি।

অডিটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেয়া ১৯৯টি প্রতিবেদনই তথা সব প্রতিবেদনই জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অ্যাক্সিস ইনস্পেকশন সল্যুশনস এইচএএলকে জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে অপব্যবহার করা হয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়াই প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হয়েছে।

আর এই তথ্য সামনে আসার পর টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। এইচএএল জানিয়েছে, বিতর্কিত সরবরাহের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনও অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

পরে এইচএএল প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তাদের জবাব পর্যালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে তিন বছরের জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকা থেকেও বাদ দেয়া হয়।

এনডিটিভি বলছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত, অডিট ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।

অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগায় এফআইআর দায়েরেও বিলম্ব হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং জাল মাননিয়ন্ত্রণ সনদ জমা দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!