আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৪১ লাখ নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পরিবারের প্রধান নারী মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবকালে এ তথ্য জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি”। সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।’
বাজেট বক্তৃতায় ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ইতোমধ্যে এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেন সম্পূর্ণ ফ্রি ও মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
এছাড়া, মা ও শিশু কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

