· মেসি মাঠে নামার পর পেনাল্টি থেকে গোল করেন
· প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ছিল তাঁর ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মিলিয়ে ৯১১তম এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১১৭তম গোল
ম্যাচ শুরুর অনেক আগ থেকেই জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটি মাত্র প্রশ্ন, লিওনেল মেসি কি মাঠে নামবেন? অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ম্যাচের ৭০তম মিনিটে। সাইডলাইনের ধারে দাঁড়িয়ে যখন নিজের জার্সি ঠিক করছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা, তখনই যেন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ৮৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার পুরো স্টেডিয়াম।
পেশির ক্লান্তি কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে মাঠে নামেন মেসি। আর মাঠে নেমেই সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান দেন তিনি। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত স্পট কিকে বল জালে জড়িয়ে দর্শকদের আনন্দে ভাসান এলএমটেন। তাঁর এই গোলের সুবাদে প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবের্ন শহরটি যেন এদিন পরিণত হয়েছিল ক্ষুদ্র এক বুয়েনস আইরেসে। নীল-সাদা জার্সিধারী সমর্থকদের হতাশ করেননি কোচ লিওনেল স্ক্যালোনিও। আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দলের প্রাণভোমরাকে পুরো ম্যাচে না খেলিয়ে শেষ ২০ মিনিটের জন্য মাঠে নামান তিনি। আর সেই অল্প সময়েই নিজের উপস্থিতির জানান দেন মেসি।
পেনাল্টি থেকে করা এই গোলটি ছিল তাঁর ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মিলিয়ে ৯১১তম গোল। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তাঁর ১১৭তম গোল হিসেবে রেকর্ডবুকে জায়গা করে নেয়। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে অধিনায়কের গোল এবং মাঠে প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থককে।
তবে মেসির মাঠে নামার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দৃষ্টিনন্দন এক আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে দেন এজেকুয়েল বার্কো। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আইসল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন থিয়াগো আলমাদা। তাঁর দুর্দান্ত ফিল্ড গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষ দুই প্রীতি ম্যাচেই টানা জয় তুলে নিয়ে এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী স্ক্যালোনির শিষ্যরা। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার আনুষ্ঠানিক মিশন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা।
কালের সমাজ/এএইচবি

