হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা সামনে এলো।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অভিমুখে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মূল্যায়ন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল এবং আটকে থাকা তেল রাজস্বের বিষয়ে সমাধান চাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তার মতে, দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান একটি শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন রাষ্ট্র হওয়ায় আলোচনায় পৌঁছাতে সময় লাগছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কালের সমাজ/ওজি

