ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নগরকান্দায় কবরস্থানের জমি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে দুই গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর | জুন ৬, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম নগরকান্দায় কবরস্থানের জমি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে দুই গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল গ্রামে দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কবরস্থানের জমি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সারোয়ার মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঝিকান্দা ও পাঁচকাইচাইল গ্রামের মানুষের জন্য প্রায় ২৮ বছর আগে নির্ধারিত এই কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। কবরস্থানটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে সম্প্রতি সারোয়ার মাতুব্বর ওই জমির মালিকানা নিজের নামে নিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু জমির মালিকানা দাবি করেই থেমে থাকেননি তিনি। কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, “মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থান। সেই জায়গা নিয়ে এমন বিরোধ এবং দখলের চেষ্টা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযুক্ত সারোয়ার মাতুব্বর বলেন, “আমি জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে অনেক আগেই মৌখিকভাবে জমিটি ক্রয় করেছি। তবে প্রায় এক মাস আগে জমিটি রেজিস্ট্রেশন করে নিজের নামে দলিল করেছি। এখন গ্রামবাসী আমার জমি ফেরত চাইছে।”
তবে কবরস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত জমি কেন তিনি এত বছর পর নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বুধবার (৪ জুন) কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান এবং জমি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান বলেন, “গ্রামের মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা বিষয়টির সমাধানে কাজ করছি। কবরস্থানের জমি উদ্ধার এবং গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের কারণে যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পুলিশ টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে কবরস্থানের জমি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
 

কালেল সমাজ/কে.পি

Link copied!