ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ, কমলাপুর ও নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ২, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ, কমলাপুর ও নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে

গ্রামের বাড়িতে পরিবার-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে মানুষজন তাদের ব্যস্ত কর্মজীবনে ফিরতে শুরু করেছেন। রাজধানীর কমলাপুরে যাত্রীর চাপ বেড়েছে এবং বাস ও লঞ্চগুলোতেও যাত্রীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। সেই চিরচেনা দৃশ্য, হাতে ব্যাগ, কাঁধে লাগেজ আর চোখে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া।

ঈদের আগে বাড়ি ফেরার সময় যে চরম ভোগান্তি দেখা গিয়েছিল। ফিরতি যাত্রায় তার তুলনায় অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ যাত্রী। শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরতে পেরে খুশি যাত্রীরা।

সরকার নির্ধারিত ঈদের ছুটি শেষে সোমবার অফিস-আদালত শুরু হওয়ায় চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকা। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় দেখা যায় কমলাপুর রেলস্টেশনে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা প্রায় সবগুলো ট্রেনে যাত্রী উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে রাত্রিকালীন যাত্রাপথে খুব বেশি বিলম্ব না হওয়ায় সন্তোষের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এক যাত্রী বলেন, এবারে ঈদযাত্রাটা আগের তুলনায় ভালো। যাওয়ার সময় অতটা ভোগান্তির মুখে পড়িনি। আসার সময়ও একই অবস্থা। সব মিলিয়ে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির ছিল।

জামালপুর থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রী সোহেল মিয়া বলেন, ভোরে ট্রেনে উঠেছি। দীর্ঘ পথ হলেও এবার যাত্রা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ঈদের আগের সেই ধাক্কাধাক্কির তুলনায় পরিবেশ অনেক ভালো ছিল।

আরেক যাত্রী বলেন, এবারের যাত্রাটা সুন্দর হয়েছে। নির্দিষ্ট টাইমে আমাদের গাড়ি ছেড়েছে। আসার সময়ও নির্দিষ্ট সময়েই পৌঁছে গেছি।

যাত্রীরা জানান, আসন পূর্ণ হওয়ার পরও অনেককে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই যাত্রা শেষ করেছেন স্বস্তির মধ্য দিয়ে।

এদিকে নোয়াখালী থেকে ফেরা এক নারী যাত্রী যাত্রাপথে তার গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঈদযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এমন ঘটনা কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে আসায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম রুটের কিছু ট্রেন সময়সূচি মানতে পারেনি। ফলে কিছু যাত্রীকে অতিরিক্ত সময় ট্রেনেই কাটাতে হয়েছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঈদের পরও যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের বেশিরভাগই আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে স্টেশন এলাকায় যাত্রী চলাচল এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।

 

কালের সমাজ/ওজি

Link copied!