ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আর কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই বছর আগে বিদেশে অবস্থানকালে তিনি শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। তিনি ওই সময়কে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। এতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টি হয়, যা সহিংসতা কমানো এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতির মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সক্রিয় উপস্থিতি আবারও শক্তিশালী হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়কে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। এ অর্জনের পেছনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ভালোবাসা, মেধা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

কালের সমাজ/ওজি

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!