কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়ানোর জন্য আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুরু হতে যাওয়া ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণীতে তিনি বলেন, প্রচলিত কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষক ও কৃষির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষকের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা তৈরি জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ প্রেক্ষাপটে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজন কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে এ মেলা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকার এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কৃষক তাঁর শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন, উৎপাদন আরও লাভজনক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের মধ্য দিয়েই একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
কালের সমাজ/কে.পি

