ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

পাঁচ শ্রেণির মানুষের জন্য সাওম ফরজ

হাফিজ মাওলানা মাসউদুল কাদির | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম পাঁচ শ্রেণির মানুষের জন্য সাওম ফরজ

আজ সিয়াম সাধনার ষষ্ঠ দিন। সাওম যাদের উপর ফরজ তা নিয়ে আজ আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। পাঁচ শ্রেণির মানুষদের জন্য সাওম ফরজ। অবশ্য পালনীয় শর্ত হিসেবে বিবেচ্য। মহান আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানুষ জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরাজীব বললেও শরীয়তের হুকুম-আহকাম পালনের ক্ষেত্রে বাধ্য করেছেন কেবল মুসলমানদের। রাষ্ট্রীয় আইন আর ইসলামের আইন-এর মধ্যে এখানেই পার্থক্য। শরীয়ত অন্য ধর্মের লোকদের ইসলাম পরিপালনের ক্ষেত্রে বাধ্য করে না। এ দিয়ে ইসলাম যে প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক- তা স্পষ্ট হয়। ইসলামকে একপেশে, একঘরে বা একমুখী ভাবার সুযোগ নেই। প্রকৃত ইসলাম মান্য যিনি করেন তিনি হবেন মানবিক। অন্য সবধর্মের মানুষদের জন্যই কল্যাণকামী।

সাওম পাঁচ শ্রেণির মানুষদের উপর ফরজ। যেমন, ক. মুসলিম হওয়া। খ. মুকাল্লাফ হওয়া, গ. সক্ষমতা, ঘ. মুকিম হওয়া ও ঙ. নারীর হায়েজ ও নেফাজ না হওয়া।

মুসলিম হওয়ার শর্ত দিয়ে যত অমুসলিম আছে সবাই বেরিয়ে গেছে। এদের কারো উপর ইসলাম রোজা পালনে বাধ্য করে না। শরিয়তের আমল করার জন্য প্রথমত মুসলমান হতে হবে। কালেমায়ে তাইয়েবা পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। তবে কেউ সহমর্মিতা দেখিয়ে রোজা রাখলে তাতে ক্ষতির কিছু নেই। স্বাস্থ্যের জন্য বরং অনেক উপকার।

আরেকটি শর্ত হলো, মুকাল্লাফ হতে হবে। শরীয়তে প্রাপ্তবয়স্ক যাকে বলে তার উপরই রোজা ফরজ। বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে, প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে, সুস্থ ব্যক্তি হতে হবে। একজন পাগলের উপর শরিয়তের হুকুম-আহকাম বর্তায় না।

আরেকটি শর্ত হলো রোজা রাখতে অক্ষম বক্তির উপর রোজা ফরজ নয়। অক্ষমতা নানাভাবে হতে পারে। বিশেষত এই অক্ষমতা যদি সাময়িক হয়, তাহলে রোজা পরে কাজা করে নিতে হবে। আর অক্ষমতা স্থায়ী হলে রোজার জন্য ফিদয়া দেয়ার নিয়ম রয়েছে।

আরেকটি শর্ত হলো ব্যক্তিকে মুকিম হতে হবে। শরিয়ত মুসাফির অবস্থায় রোজা পালন ওয়াজিব করে না। মুসাফিরের জন্য ভিন্নরকম কিছু নিয়ম নীতিমালা আছে। ভ্রমণে যেহেতু কষ্ট হয়, পরিশ্রম হয়। ইসলাম এ কারণে ভ্রমণকারীর উপর রোজা ফরজ করেনি। তবে এ ভ্রমণ অবশ্যই ৪৮ মাইলের দূরত্ব এবং পনের দিনের কম সময়ের জন্য হতে হবে।

আরেকটি শর্ত হলো নারীর হায়েজ ও নেফাজ। ঋতুবর্তী ও নেফাজের সময়ের রোজা অবশ্যই কাজা করতে হবে। শুধু ওই সময় তার উপর রোজা ওয়াজিব নয়। অন্যান্য ইবাদত যেমন সালাত আদায় করা ওয়াজিব নয়।  

সাওম সম্পর্কে জেনে বুঝে আমাদের আমল করা উচিত। না বুঝে ভুল সময়ে আমল পরিত্যাজ্য হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জেনে বুঝে আমল করার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক : পারিচালক, আন-নাহাল ইসলামিক এডুকেশন ফোরাম ঢাকা।

ইমেইল : masudulkadir83@gmail.com

কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!