ইরান বিশ্বকাপে না খেললে ইতালিকে সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইতালির সরকারি কর্মকর্তারা। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া উচিত, কোনও রাজনৈতিক বা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়। খবর আল-জাজিরার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আয়োজনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই জায়গা নিশ্চিত করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তাদের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন দূত পাওলো জামপোল্লি প্রস্তাব দেন, ইরান না খেললে তার বদলে ইতালিকে সুযোগ দেয়া হোক। তিনি দাবি করেন, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ঐতিহ্য ও সাফল্য বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি। তিনি বলেন, ‘এটি মোটেও উপযুক্ত নয়। মাঠে যোগ্যতা প্রমাণ করেই বিশ্বকাপে যেতে হয়।’
একইভাবে অর্থমন্ত্রী জিয়ানকারলো জর্জেত্তি একে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুসিয়ানো বুওনফিগলো বলেন, ‘প্রথমত, এটি সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, আমি এতে অপমানিত বোধ করব। বিশ্বকাপে যেতে হলে সেটা অর্জন করতে হয়।’
এদিকে কোচ জিয়ান্নি দি বিয়াসি মনে করেন, ইরান বাদ পড়লে স্বাভাবিকভাবে বাছাইপর্বে তাদের পরের দলই সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের বিষয়ে ইতালির ট্রাম্পের সমর্থনের প্রয়োজন নেই।’
উল্লেখ্য, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। অন্যদিকে ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরানের সরে দাঁড়ানো বা নিষিদ্ধ হওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত নেই। বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, যেখানে ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে।
কালের সমাজ/এসআর

