নতুন সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার বিশাল সম্প্রচার চুক্তি হারানোর আশঙ্কায় ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের নির্ধারিত ম্যাচটি আয়োজন করানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)ও আইসিসির সঙ্গে একযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং পাকিস্তান সরকারকে ম্যাচ বয়কট সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনও অটল রয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শুধু ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ। আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এই এক ম্যাচ থেকেই প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্য, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
২০২৩ সালে জিও হটস্টার ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা) আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব কেনে, যেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদি ম্যাচটি না হয়, তবে শুধুমাত্র চলতি বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোর আর্থিক কাঠামোও বড় ধাক্কা খাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই বিশাল চুক্তি নবায়ন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আইসিসির আয়ের বড় অংশ কমিয়ে দেবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের মতো বোর্ডগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেখানে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে।
পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে, আইসিসি ও জিও হটস্টারের মধ্যে বৃহৎ আর্থিক ক্ষতি হতে পারে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। তাই এই সংকট শুধু একটি ম্যাচের ইস্যু নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :