ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর প্রথম গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ড

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর প্রথম গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ড

দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে হাফিজুর রহমানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন—তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর ওরফে জাহিদের ডিএনএ নমুনা ম্যাচিংয়ের আবেদন করেন। আদালত এতে সম্মতি দিয়েছেন। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক দশকে চারটি সংস্থার সাত জন কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সন্দেহভাজন তিন আসামি বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তবে তনু হত্যার পর কখন তারা অবসরে গেছেন বা তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে কিনা, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনও রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও আজ আদালতে আসেন। তিনি  বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘দেশের সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে-যেখানে বলেছে ছুটে গেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কী লাভ।’

 

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!