ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার স্বীকৃতি পেল তহমিনা

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার স্বীকৃতি পেল তহমিনা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তহমিনা আক্তার (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সম্মাননা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তহমিনার হতদরিদ্র বাবা-মা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে এক প্রবাসীর সঙ্গে নির্ধারণ করেন। তহমিনা জিয়ানগরের সেতারা স্মৃতি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি আলম হাওলাদার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

বিয়েতে অসম্মতি জানিয়ে তহমিনা সাহসিকতার সঙ্গে সেদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেন। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান . হাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা হয়।

বুধবার (২২ এপ্রিল) পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তহমিনা আক্তারকে ডেকে এনে তার এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিকা আক্তার, জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তহমিনার মা আনোয়ারা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তহমিনা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার এই পদক্ষেপ অন্য মেয়েদেরও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উৎসাহিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো অভিভাবক যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বাল্যবিবাহে উৎসাহিত না করেন এবং এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!