ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

শাহজাদপুরে শিশু মাহতাব হত্যাকাণ্ড! বাবা-চাচার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ | এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম শাহজাদপুরে শিশু মাহতাব হত্যাকাণ্ড! বাবা-চাচার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মাহতাব হোসেন হৃদয় নামের ৫ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকার মধ্যে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সপ্তাহ পেরোতেই নিহত শিশুটির বাবা ও চাচার মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, যা পুরো ঘটনাকে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে।

নিহত শিশুর বাবা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, তার কোলে থাকা অবস্থায়ই দুই চাচা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চাচারা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করছেন, ফারুক হোসেন নিজেই তার সন্তানকে হত্যা করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটলেও আশপাশে কেউ উপস্থিত ছিল না বলে দাবি করেছেন শিশুটির বাবা, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। অপরদিকে সপ্তাহ পেরুলেও কাওকে আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামে ফারুক হোসেনের পুত্র মাহতাব হোসেন হৃদয়কে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে আপন দুই চাচা মৃত হাতেমের পুত্র হামেদ সরদার ও পেশকার সরদারসহ এই দুই পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে শিশুটির পিতা ফারুক। মামলা করার পরে হামেদ ও পেশকার সরদারের বাড়ীতে গরু বাছুরসহ আসবাবপত্র লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার দুইটি।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হামেদ আলী বাড়িতে টয়লেট নির্মাণ করার জন্য ফারুক হোসেনের গোয়াল ঘর ঘেসে মাটি ফেলার সময় নিষেধ করলে তারা নিজেরা সালিশে বসে মিমাংশা করার জন্য উক্ত স্থানে বসে। এসময় দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরপর এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে অবাক করার ঘটনা হলো যাহারা সালিশ করেন তাহারা কেউ সালিশে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদককে জানায়।

উক্ত মামলার ১ নং স্বাক্ষী সাদ্দাম এর সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন সালিশে বা ঘটনার সময় উক্ত স্থানে আমি ছিলাম না আমি বাড়ীতে ছিলাম, পরে বিষয়টি জানতে পারি। এদিকে ২ নং সাক্ষী রফিকুল ইসলাম জানান ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম আমি বিষয়টি পরে জানতে পেরে দোকান বন্ধ করে এগিয়ে যাই। অপরদিকে ৩ সং স্বাক্ষী আব্দুল মান্নান বলেন সালিশ তো দুরের কথা আমি কিছুই জানিনা, উক্ত ঘটনার সময় জামিরতা বাজারে ছিলাম। এছাড়াও সালিশে উপস্থিত দেল মাহমুদ, বাবু সরদার, শফিক সরদার, ওসমান সরদার, রফিকুল সরদারসহ অনেকেই সালিশে উপস্থিত থাকলেও কেউ সালিশে বিষযে স্বীকার করেননি।

এব্যপারে নিহত শিশুর চাচা ও হত্যা মামলার ১ নং আসামী হামেদ সরদার সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, মাটি ফেলে নিয়ে দরবারে বসার সময় আমি জমিতে পানি দেওয়ার কল ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আসে বাড়ীর সাথের পালানে তখন দেল মাহমুদ ও ১ নং স্বাক্ষী সাদ্দাম আমাকে দলিল দেখতে বলে আমি তখন দলিল নিয়ে দেখারে সাদ্দাম দলিল দেখার সময় আমার ভাই ফরুক সালিশ থেকে উঠে গিয়ে বাড়ীর ভিতরে চলে যায় এবং তার নিজের ছেলেকে কোপ দিয়ে আমাদের সুনায় এখন তোদের জমি খাওয়াবোনি। এরপর আমি ওখান থেকে চলে যায়। সাদ্দাম এবং দেল মাহমুদের ষড়যন্ত্রেই এ কাজ আমার করেছে বলে অভিযোগ হামেদের। অপরদিকে ২ নং আসামী পেশকার সরদারের সাথে কথা হলে তিনিও একই কথা বলে প্রতিবেদকে।

এব্যপারে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)সাইফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদী এ কর্মকর্তা।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বই হয়তো এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে পরিস্থিতিকে।একটি নিষ্পাপ প্রাণের এমন করুণ পরিণতি পুরো সমাজকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। সত্য উদঘাটন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত প্রশাসনের প্রতি আশুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।


কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!