কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ও উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা দমকা হাওয়া ও ঝড়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ঝড়ের তীব্রতায় অসংখ্য বসতবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে গাছপালা ও ঘরের বেড়া। বহু স্থানে সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পুরো এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা। প্রচন্ড ঝড়ে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে পরীক্ষার কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কেউ কেউ কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারলেও অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও রাস্তায় ছুটতে দেখা গেছে, যা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও মাধবদী গ্রামসহ কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসলের জমি নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকের ঘরে চাল নেই, কারো ঘরের বেড়া নেই।—হঠাৎ এই দুর্যোগে অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এমন ঝড়-তাণ্ডব ও ক্ষয়ক্ষতি আমরা আগে কখনো দেখিনি।” ঝড়ের সময় মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড বাতাসে ঘরের ভেতরেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত ত্রাণ সহায়তা, খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কালের সমাজ/কে.পি

