ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সমুদ্র বালুচরে নামাজে মগ্ন পর্যটকরা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম সমুদ্র বালুচরে নামাজে মগ্ন পর্যটকরা

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত চলছে, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে সাগরের লোনা জল আর ভেজা বালিয়াড়িতে সারিবদ্ধ হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করছেন একদল পর্যটক। সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উচ্ছ্বাস, ছবি তোলা, দৌড়ঝাঁপ, হাসিঠাট্টার দৃশ্যই প্রতিনিয়ত দেখা গেলেও এমন ইবাদতে মগ্ন থাকার দৃশ্য খুবই বিরল।

নরসিংদীর খিদিরকান্দি থেকে আসা ‘খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৫ জনের একটি দল বার্ষিক ভ্রমণে কক্সবাজার এসেছেন। তাদের মধ্য থেকেই ৩০ জনের একটি দল মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের বালিয়াড়িতে জামাতে নামাজ আদায় করেন।

নামাজের ইমামমতি করেন নরসিংদীর খিদিরকান্দির খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ মাদ্রাসার হাফেজ ওবায়দুল্লাহ। নামাজ আদায় শেষে তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে ৯৫ জনের একটি দল কক্সবাজারে বার্ষিক সফরে এসেছেন। সকাল ১১টায় কক্সবাজার পৌছে হোসাইন গেস্ট হাউসে ব্যাগ রেখে সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ জনের মতো সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আসি। ঘণ্টাব্যাপি সমুদ্রে গোসল ও ফুটবল খেলা শেষে দেখি জোহরের নামাজের সময় হয়েছে। তাই সবাই মিলে উত্তাল সমুদ্রের সামনে বালিয়াড়িতে জোহর ও আছরের সফর নামাজ আদায় করেছি।‍‍`

হাফেজ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানান, সমুদ্রপাড়ে ভেজা বালিয়াড়িতে নামাজ আদায় করে তিনি গভীর প্রশান্তি অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, তারা মূলত আল্লাহর নিদর্শন দেখার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন। আল্লাহর সৃষ্টি প্রকৃতি ঘুরে দেখা এবং তার প্রশংসা করার কথাও বলা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই তারা সফরে এসে সাগরপাড়ে গোসল শেষে সময়মতো জোহরের নামাজ আদায় করেন।

তিনি আরও বলেন, ‍‍`আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেছি, এতে অনেক তৃপ্তি পেয়েছি-আলহামদুলিল্লাহ। সমুদ্রের বিশালতার সামনে নামাজ আদায় করার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশান্তিময় অভিজ্ঞতা।"

খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ মাদ্রাসার প্রধান মোহাম্মদ সালিমুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার জমিনে ভ্রমণ করে তার নিদর্শনসমূহ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্রও আল্লাহর একটি বড় নিদর্শন।

তিনি আরও বলেন, এই নিদর্শন দেখার উদ্দেশ্যেই তারা এখানে এসেছেন। জোহরের নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় তারা আজান দিয়ে জামাতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন।

মঙ্গলবার ও বুধবার কক্সবাজার ভ্রমণে করে বৃহস্পতিবার রাতে তারা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে জানা গেছে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!