ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমতলীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিকদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি, বরগুনা | মে ৭, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম আমতলীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিকদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতা, থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চালকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আমতলীর থ্রি-হুইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নিবন্ধন নেওয়া হয়। পরে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদারকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি করা হয়। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম মেনে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জালাল উদ্দিন ফকির ও তার ছেলে রাহাত ফকির বিভিন্ন সময় সিএনজি ও থ্রি-হুইলার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। গত মঙ্গলবার মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে সিএনজি স্ট্যান্ডে গেলে জালাল ফকির তার লোকজন নিয়ে তাকে ও সুমন নামের আরেকজনকে ধরে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে জালাল ফকিরের সহযোগী আমিরুল ইসলামকে বাদী করে আমতলী থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তারিকুল ইসলাম সোহাগ আরও বলেন, রাহাত ফকির একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত। থ্রি-হুইলার ও সিএনজি থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করা হতো। এছাড়া সড়কে যানবাহন চালাতে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিল্টন হাওলাদার ও সুমনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মামলা প্রত্যাহার এবং আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা, নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিকদল নেতা ও থ্রি-হুইলার চালক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি. জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মিল্টনকে হাতেনাতে টাকাসহ আটক করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!