ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা ব্লিজ হাসপাতালে আগুন, ৮ দমকল কর্মী অসুস্থ

জেলা প্রতিনিধি,সাতক্ষীরা | আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম সাতক্ষীরা ব্লিজ হাসপাতালে আগুন, ৮ দমকল কর্মী অসুস্থ

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার পর শহরে অবস্থিত ব্লিস নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আগুন লেগেছে।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের ১০ তলা ভবনের নীচতলার মেশিন ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর গোটা হাসপাতাল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এসময় রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালে দায়িত্বরত স্টাফরা আতংকিত হয়ে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। অনেকেই দম আটকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে হাসপাতালের গ্লাস ভেঙ্গে বাইরে আসার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়।
হাসপাতালের পরিচালক আবুল হাসান জানান, ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়। রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের দ্রুত বের করে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্তের মাধ্যমে এর উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতাল ভবনের ভেতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, গোটা হাসপাতাল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসাপাতালের রুমের গ্লাসগুলো ভাঙচুর করেন। এসময় গ্লাসের একটি খন্ড মাথায় পড়ে তিনি আহত হয়েছেন। 
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে প্রায় ৬০ জন রোগী ছিলেন। এরমধ্যে সিসিইউতে ৬ জন ও সদ্য প্রসূত ৪ জন নবজাতক ছিলো। এদেরকেসহ সকল রোগীকে বের করে অন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। তবে, এখনো পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। তিনি আরো বলেন, ৮ জন উদ্ধার কর্মী ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা অন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুপুর সাড়ে তিনটায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দমকল বাহিনী উদ্ভূত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ বা আগুন নেভানোর চেষ্টায় রয়েছেন। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়কসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ফায়ার সার্ভিসসহ সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণের সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। 
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস এর ওয়ার হাউজ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, ফায়ার বিভাগের ৬টি ইউনিট এক যোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফলে আগুন ভবনের বেশি উপরে উঠতে না পারায় ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কম হয়েছে। অন্তত অর্ধশতাধিক রোগিদের রেসকিউ করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। কিছু ফায়ারকর্মী পুলিশ সদস্যরা কমবেশি আহত হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি। 
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি রেডক্রিসেন্টসহ স্থানীয়দের সহয়তায় ফায়ার সার্ভিজকে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। হুড়োহুড়িতে কিছু রোগি আহত হয়েছে। 

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!