ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

৯১ বছর বয়সেও জোটেনি বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ | জুন ৭, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম ৯১ বছর বয়সেও জোটেনি বয়স্ক,  বিধবা ভাতার কার্ড

৯১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের মৃত আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী লতিফুন নেসা। সামনের দিনে সরকারি সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, স্বামী আবুল বিশ্বাস মারা গেছেন ৬০ বছর।

বর্তমান তার বয়স ৯১ বছর। বয়সের ভারে এখন তিনি ন্যুজ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্য পড়ে গিয়ে পক্ষঘাত গ্রস্ত হয়েছেন তিনি। ভাতার কার্ডের যোগ্য হলেও ভাগ্যে জোটেনি একটি কার্ডও। সংসার জীবনে ২ ছেলে ও ৫ মেয়ের জননী ওই নারী। এর মধ্যে বিয়ে দিয়েছেন মেয়েদের। বাড়িতে থাকেন দুই ছেলে বড় ছেলে কাশেম বিশ্বাস ৭০।বয়সের ভারে অসুস্থ। ছোট ছেলে আব্দুল মালেক বিশ্বাস ৬৫ তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী ভাতা পান।

এদিকে মৃত্যুর পর লতিফার ছেলেদের উপর নির্ভর করে চলে  আসছে তার জীবন।। মাসে ৩০ দিন তার মধ্যে দশ  দিন করে ভাগ করে খেতে হয় তার খাবার।  ছেলেরা সময়মতো মায়ের খাবার দিলেও ওষুধসহ অন্যান্য খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদেরও আলাদা সংসার আছে সেই সংসার সামলিয়ে  মায়ের খরচ মেটানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপরও ভাতার জন্য দীর্ঘদিন স্বামীয় চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে ধন্যা ধরেও কোন লাভ হয়নি। তবে সম্পত্তির ভাতার জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করেছেন লতিফুন নেসা।

লতিফুন নেসা  বলেন, টাকা পেলে আমার ঔষধসহ ইচ্ছামত কিছু কিনে খাতি পারতাম। আর ছেলেমেয়েদের ছেলে-মেয়ে তাদেরকে কিছু দিতে আমার ইচ্ছা করে। তা টাকা না থাকলে কিভাবে দেব। এজন্য ভাতার টাকা দরকার। লতিফুন নেসার বউমা শেফালী খাতুন বলেন,আমাদের সংসার সামলিয়ে আমার স্বাশড়িকে দুই মুঠো খেতে দেয়া সম্ভব হয়। তাঁর অন্য ব্যয় মেটানো আমাদের পক্ষে খুবই কষ্ট হয়ে পড়ে। এ কারণে ওনার সরকারি ভাতা পেলে, তিনি ইচ্ছে মত খেতে পারতেন,চিকিৎসা করাতে পারতেন। তিনি আরও বলেন,ভাতার কার্ড দিবে বলে বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যান মেম্বারের ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি নিয়েছেন আজ ও হয়নি। প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ বলেন,৩০ বছর ধরে বিধবা তিনি। বয়স এখন ৯১। বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্যা। 

পড়ে গিয়ে আহত হয়ে লাঠিতে ভর করে চলেন। সরকারি নিয়মে বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী তিনটা ভাতায় পাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো একটি ও পাননি। কত বয়স হলে তিনি সুবিধা পাবেন। দোড়া  ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন,অপেক্ষমান তালিকায় ওই নারীর নাম ছিল না। গেল ১৫ দিন আগে যে তালিকা হয়েছে, সেই তালিকায়, তাঁর নাম আছে। তিনি আরও বলেন,ইউনিয়নে ৪-৫শ জনের তালিকা আছে। এজন্য তার নাম জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি কিছুদিন আগে শুনেছি। সুযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে,কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী বলেন,সরকার আপনাদের মাধ্যমে জানলাম ৯১ বছর বয়সী লতিফুন নেসা এখনো কোনো ভাতা পাননি। শুনেছি তিনি অনলাইন ভাতার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সামনে সুযোগ পেলে চেষ্টা করব তাকে ভাতা আওতায় আনতে।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!