চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে এক এমপিওভুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। একই সঙ্গে তিনি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আবুবকর ও পীর মোসলেদ্দিন এতিমখানার সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নীতিমালার আলোকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ১১ জুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, “নীতিমালায় রয়েছে, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক অন্য কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। মিজানুর রহমান এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও অবগত রয়েছেন।”
এদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন আবুবকর ও পীর মোসলেদ্দিন এতিমখানার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ পৌর নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষক মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি অনেক দূরে আছি, এখন কিছু বলতে পারব না। পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যক্তি সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে থাকলে তার পেছনের কারণও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কালের সমাজ/কে.পি

