ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জাতিসংঘের

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ২৮, ২০২৬, ১০:২৩ এএম অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জাতিসংঘের
সংগৃহীত ছবি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ‘কোনো আইনি বৈধতা নেই’ এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।


সোমবার  প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গুতেরেস এ মন্তব্য করেন। এমন সময় তিনি এই নিন্দা জানালেন, যখন পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়ছে এবং ইসরায়েল সরকার বিদ্যমান কয়েকটি বসতিকে বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

গুতেরেস বলেন, এসব বসতি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ‘ন্যায়সঙ্গত, টেকসই ও সার্বিক শান্তি’ প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো বারবার ইসরায়েলের বসতি নীতির সমালোচনা করেছে। তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

গত শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার সরকার পশ্চিম তীরে কৃষিভিত্তিক আউটপোস্টগুলোকে দ্রুত বৈধতা দেবে এবং নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করবে। ExecutiveBranch

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এর এক পরামর্শমূলক মতামতেও বলা হয়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চলমান দখল অবৈধ।

আউটপোস্ট বলতে সাধারণত রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা ছোট বসতিগুলোকে বোঝায়। ফলে এগুলো ইসরায়েলের নিজস্ব আইনেও অবৈধ।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে এবং দুই ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা, অনেক ক্ষেত্রে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায়, ফিলিস্তিনিদের বেসামরিক অবকাঠামো, জনপরিসর ও কৃষি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০টি ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১৮ শিশুসহ ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

ওসিএইচএ জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অন্তত এক হাজার ৩৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে হাজারো মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা ও জীবিকার সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ।

গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর ইসরায়েলের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছিলেন গুতেরেস। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই পদক্ষেপ বসতি সম্প্রসারণকে আরও স্থায়ী করবে।

চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা যেভাবে বাড়ছে, তা গাজায় ইসরায়েলি হামলা জোরদারের সমান্তরালে ঘটছে। এতে উভয় অঞ্চলে বাস্তুচ্যুতি ও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।  সূত্র আল জাজিরা 
কালের সমাজ/এএইচবি

 

ভিনদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!