ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাগুরায় ভূতুড়ে কলেজে দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম মাগুরায় ভূতুড়ে কলেজে দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ

কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নেই কোনো সাইনবোর্ড বা দৃশ্যমান শিক্ষা কার্যক্রম। চারপাশ ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা, বারান্দায় গজিয়েছে ঘাস। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা জরাজীর্ণ দুটি টিনশেড ঘরের কক্ষগুলোতে জমেছে ধুলোবালির আস্তরণ। অথচ এই ‘পরিত্যক্ত’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামেই অবকাঠামো উন্নয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাদ্দ দিয়েছে মোটা অঙ্কের সরকারি তহবিল; যার পরিমাণ দেড় কোটি টাকা। মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে চুকিনগর এলাকায় অবস্থিত ‘মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজ’-এর এমন চিত্রে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের  ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বরাদ্দ অনুমোদন করে। ইতোমধ্যে নকশা অনুমোদনের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষার কাজও শুরু করেছে মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ। জানাগেছে, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক নানা সমীকরণে গত প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিত পাঠদান হয় না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে দেখা যায়, চুকিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি ধানচাতালের পাশে দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ দুটি ঘর। নেই কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আনাগোনা। কয়েকটি কক্ষে মরিচা পড়া তালা ঝুলছে, আবার কয়েকটির বেড়া ভাঙা। সেখানে পাঠদানের মতো কোনো অবস্থা বা পরিবেশ নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সী শহিদুর রহমানের নামে তার ছেলে কামরুজ্জামান ২০১৮ সালের দিকে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির উপর দুইটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে কলেজটির সূচণা করেন। পরবর্তীকালে নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের দাবি, রাজনৈতিক মামলার কারণে তারা নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে পারেননি এবং বর্তমানে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ৮-১০টি মামলার শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি। 

এখানে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, তাদের অনেকের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে। নতুন ভবন হলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াবে।’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে মোবারক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের স্বীকৃতি আছে। এমপিওভূক্ত না হওয়ায় এটির বেহাশদশা। চলতি বছরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।’ কাগজে-কলমে কার্যক্রম সচল দেখালেও বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। একটি অচল প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে সরকারের দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ হলো, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মাগুরা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এই বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সরেজমিনে জরিপ চালিয়ে কোনো অসংগতি বা শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যত্যয় বা অন্য কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে তা মন্তব্য কলামে লিখে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।’

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!