খাবারে মাছির হৈ হুল্লুর, বৃস্টির পানি পড়ে, নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বনফুল ও `আলআমিন নামক বেকারী প্রতিষ্টানটিতে। উপজেলার বোরহানগঞ্জ বাজার অবস্থা বনফুল ও রানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত বেকারীতে সরজমিনে গেলে বুক ফুলিয়ে উপরের কথাগুলো বাস্তবতা স্বীকার করেন আল আমিন বেকারীর মালিক মো.আলামিন।
বনফুল বেকারীর মালিক মো- ইব্রাহিম পরিবেশ ও বিএসটি আই এর নিয়ম মেনেই খাদ্যদ্রব্য তৈরী হচ্ছে এমনটাই দাবী করেন। তবে তিনি বিএসটিআই এর মেয়াদ উত্তির্ণ কাগজ দেখিয়ে সবই বৈধ এবং স্বাস্হ্যকর বলে দাবী করেন। অস্বাস্হ্যকর পরিবেশ আর অনিয়মটা যে অন্যায় এমন অনুতপ্ত নেই তার কথার মাঝে। তিনি সংবাদকর্মীদের দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগে করলেও আল আমিন বেকারীর মালিক আলআমিন দ্রুত স্হান ত্যাগ করার চেস্টা চালালে তাকে থামিয়ে জানতে চাইলে বলেন, দেখছেনতো পানি পরছে,পরিবেশ ভালো করার চেস্টা করবো।
বেকারীর মধ্যে প্রবেশ করতেই নজরে পরে শ্যাতে শ্যাতে অবস্থা। মাটিতে পড়ে আছে রুটি,বিস্কুটসহ নানান ধরনের খাবার তৈরির জন্য গুলিয়ে রাখা ময়দা। ক্যামেরা দেখেই তুলে নেন এক শ্রমিক। এছাড়াও মাছি,ময়লা পড়ে আছে এসব খাবারে। এসব বিষয় নিয়ে যেন কারোই মাথা নেই। শিশুরা এসব খাবার খেয়ে ডায়রিয়াসহ নানান ধরনের রোগ হচ্ছে বলে প্রতিকৃয়া জানালেন সাধারন মানুষ। বল্লেন, এসব বেকারী গুলোতে প্রশাসন যেন অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেন। জেলার অনেক বেকারীতেই একই অবস্থা। খুবই অস্বাস্হ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য তৈরি খাবার। রুটি, বিস্কুট, কেকসহ নানান ধরনের মুখরোচক খাবার সামগ্রী। খাবারে রং মিশনো, পচাঁ ডিম, ডালডা মিশানো হচ্ছে এসব খাবারে। তাই এসব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী সাধারন মানুষের। স্হানীয় বাসিন্দা মো: বাশার বলেন,দীর্য দিন ধরেই আমরা এবং আমাদের সন্তানরা এসব খাবার খেয়ে ডায়রিয়াসহ নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একই ভাবে কথা বল্লেন, মো: আক্তার হোসেন এবং মো: ইব্রাহিম।
কারাখানা ২ টিতে দূগর্ন্ধ, শ্রমিকদের শরীরের ঘাম খাবারে মধ্যে ঝড়ে পরা,মাছির অবাধ বিচরন, নিম্ন মানের কাচামাল ব্যবহার যা মানুষের দেহের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।
এসব বিষয় বেকারী মালিক সমিতি সাধারন সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন বাচ্চু দাবী করেন.দীর্য দিন কোন ধরনের তদারকি করা হচ্ছে না। সভা হয়নি বেকারী মালিকদের সাথে। যে সকল বেকারী মালিকগন নিয়ম না মেনে খাবার উৎপাদন করেন তাদের অনেকই সমিতির নিয়ম না মানায় কারখানা বন্দ করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরো বলেন,দ্রুত সভা ডেকে সকল বেকারীর মালিকদের সচেতন ও সতর্ক করে দেয়া হবে।
অপরদিকে এসব বিষয় প্রশাসনের যে উদাসীনতা রয়েছে তা ফুটে উঠে খোদ বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন এর কথায়। তিনি বলেন,খাদ্যদ্রব্য তৈরির প্রতিষ্ঠান আমরা সময় সময় ভিজিট করি। এটা আমাদের প্রপার মনিটরিংয়ের মধ্যেই আছে। তার পরেও যদি কোন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব। এর পরেই যানতে চাওয়া হয় তিনি কোন বেকারীর কারখানা ভিজিট করেছেন কিনা? এ প্রসঙ্গে বলেন -আসলে বাস্তবে কোন বেকারী পরিদর্শন করিনায়, তবে ঈদে যে বাড়িতে সেমাই তৈরি করে তা দেখেছি।
সচেতন মহলের দাবী হচ্ছে প্রশাসন যদি এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং তাদের দ্বায়িত্ব এরিয়ে যায়,তা হলে এই সমাজ থেকে অনিয়ম দুর হবে কিভাবে?এজন্য প্রয়োজন যে কোন ভাবেই হোক সবাইকে জবাদিহিতার আওয়ায় নিয়ে আসা। একই সাথে এসব বেকারী গুলোতে অভিযান চালিয়ে একটা নিয়ম শৃংখলার মাঝে নিয়ে আসা যাতে দ্বীপ জেলার অসহায় শিশুরা ডায়রিয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত না হয় সেদিকে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।
কালের সমাজ/কে.পি

